📌 দুর্গাপূজার শেষ ঢাকায় ফিরে আসে ঢাকীদের জীবনযাত্রার কষ্টের গল্প। পাবনা থেকে ঢাকায় আসা গোপাল দাস, নিখিল দাস ও হৃদয় ঋষিরা বলেছেন, উৎসবের চার-পাঁচ দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে বছরজুড়ে সংসার চালানোর জন্য কৃষিকাজে নেমে পড়েন
দুর্গাপূজার শেষ ঢাকায় ফিরে আসে ঢাকীদের জীবনযাত্রার কষ্টের গল্প। ঢাকার মণ্ডপগুলোতে শেষ চাট্টি বাজানোর পরই তাদের জন্য শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। পাবনা ও বিক্রমপুরের গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা তিনজন ঢাকী—গোপাল দাস (৫৪), নিখিল দাস ও হৃদয় ঋষি—দুর্গাপূজার এই চার-পাঁচ দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে বছরজুড়ে সংসার চালানোর জন্য কৃষিকাজে নেমে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা থেকে ঢাকায় আসা ৫৪ বছর বয়সী গোপাল দাস, নিখিল দাস ও হৃদয় ঋষি বলেছেন, পূজার শেষ ঢাকায় ফিরে আসে অভাবের সংগ্রাম
- 📌 উৎসবের চার-পাঁচ দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে বছরজুড়ে সংসার চালানোর জন্য তারা কৃষিকাজে নেমে পড়েন
- 📌 পূজা শেষে ঢাকীদের জীবন ফিরে যায় ধূসর বাস্তবতায়; অন্য সময়ে বিয়ে, সুন্নতে খাতনা বা কীর্তনে ঢাক বাজানোর বায়না পায় না
- 📌 বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতা কাজল দেবনাথ বলেছেন, ঢাক ছাড়া শারদীয় উৎসব অসম্পূর্ণ, কিন্তু ঢাকীদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
দেবী দুর্গা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে। চারদিকে বিষাদের সুর ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার মণ্ডপগুলোতে শেষ চাট্টি বাজানোর পরই ঢাকীদের জীবন ফিরে যায় ধূসর বাস্তবতায়। পাবনা ও বিক্রমপুরের গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা গোপাল দাস, নিখিল দাস ও হৃদয় ঋষি বলেছেন, পূজার এই চার-পাঁচ দিনে তাদের আয় হয় মাত্র ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সার বছর পথ চেয়ে থাকা এই ঢাকীদের জন্য এই সময়টাই বড় অর্থনৈতিক প্রত্যাশা।
গোপাল দাস বলেন, ‘পূজার দিনগুলো আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। মা দুর্গাকে ভক্তিভরে বরণ করি। ঢাকের ছন্দে মানুষ হাসে, নাচে, আনন্দ করে। আমরাও ভুলে যাই কষ্ট। কিন্তু ঢাকে শেষ চাট্টি পড়তেই মনে পড়ে যায়, কাল থেকেই আবার সেই অভাবের দিন শুরু।’
পূজা শেষে ঢাকীদের জীবন ফিরে যায় ধূসর বাস্তবতায়। নিখিল দাস বলেন, ‘বছরের অন্য সময়ে বিয়ে, সুন্নতে খাতনা, কীর্তন কিংবা বৈশাখী মেলায় ঢোল বা কাঁসর বাজানোর বায়না পায় না। ডিজিটাল সাউন্ড বক্সের যুগে মানুষ আর আগের মতো ঢাক-ঢোল খোঁজে না। পূজা আর দুয়েকটা অনুষ্ঠান ছাড়া আমাদের ডাক পড়ে না বললেই চলে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতা কাজল দেবনাথ বলেছেন, ‘ঢাক ছাড়া আমাদের শারদীয় উৎসব অসম্পূর্ণ। ঢাকের এই সুর কোনো সাধারণ বাদ্য নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা পুরো মণ্ডপকে আনন্দ আর ভক্তিতে ভরিয়ে তোলেন, উৎসব শেষে তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থাকেন। বছরজুড়ে তাদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়। প্রযুক্তির ভিড়ে এই লোকশিল্পীরা যেন হারিয়ে না যান, সেদিকে সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন।’
"পূজার দিনগুলো আমাগো কাছে স্বপ্নের মতো। মা দুর্গাকে ভক্তিভরে বরণ করি। ঢাকের ছন্দে মানুষ হাসে, নাচে, আনন্দ করে। কিন্তু ঢাকে শেষ চাট্টি পড়তেই মনে পড়ে যায়, কাল থেকেই আবার সেই অভাবের দিন শুরু"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, পাবনা, বিক্রমপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোপাল দাস (৫৪), নিখিল দাস, হৃদয় ঋষি, কাজল দেবনাথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-২৫ হাজার টাকা (পূজা আয়), ৫৪ বছর (গোপাল দাসের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!