📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের গেটসংলগ্ন সড়কে প্রাইভেটকারের অকস্মাত ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়। গাড়িচালক সাদমান সাকিব বলেছেন, তিনি ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) গেটসংলগ্ন সড়কে মঙ্গলবার সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেটকারের অকস্মাত ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়। প্রাথমিকভাবে ছয়জন আহতের তথ্য পাওয়া গেলেও পরে সাতজন শিক্ষার্থীর আঘাতের খবর পাওয়া যায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব, যিনি ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাড়ে ১১টায় ঢাবির এফবিএস গেটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত, তাদের মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের এবং একজন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের
- 📌 গাড়িচালক সাদমান সাকিব স্বীকার করেছেন, ‘ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলাম, গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটে সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়’
- 📌 আহতদের হাত, পা ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে যাওয়ার ক্ষত হয়েছে, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা পেয়েছেন
- 📌 শিক্ষার্থীরা গাড়িচালককে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মামলা করার দাবি জানান
- 📌 প্রক্টর অফিসের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব বলেছেন, তিনি আগে গাড়ি চালাননি। আজ শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। কলাভবনে এক রাউন্ড দিয়ে আসার সময় তিনি বেশি মানুষ দেখে ভয় পেয়ে যান। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক দিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটে যায়। প্রথমে সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সিনহা মল্লিক। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস সড়কে ওঠার সময় গাড়িটি তাঁকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে। সেই সময় গাড়িটি সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন। আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন তৈরি করে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া জানান, প্রক্টর অফিসের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সাদমানের বাবা ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থী তাহিয়া আক্তার সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে আসেন। তার বাম পায়ে আঘাত পায়ে আঘাত ছিল।
"আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। ব্রেক দিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (এফবিএস) গেটসংলগ্ন সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাদমান সাকিব (গাড়িচালক), ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (গাড়ির মালিক), সিনহা মল্লিক (প্রত্যক্ষদর্শী), ড. শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ জন আহত শিক্ষার্থী, সাড়ে ১১ টা (দুর্ঘটনার সময়), ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষ (সাদমানের শিক্ষাবর্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!