📌 ঢাকার আকাশরেখা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ৫০০ ফুটের উচ্চতায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে। আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক সুবিধাসমৃদ্ধ প্রকল্প গড়ে তুলছেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আবাসন ও খাদ্য সরবরাহ
ঢাকার আকাশরেখা দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। গত শতাব্দীতে নির্মিত ৩১ তলাবিশিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ৪৫০ ফুট উচ্চতা থেকে শুরু করে, বর্তমানে শহরটিতে ৫০০ ফুটের উচ্চতায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে। শান্তা পিনাকেলের প্রথম ৪০ তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকায় আধুনিক স্থাপত্যের নতুন যুগ শুরু হয়েছে। দেড় দশক আগে ২০ তলা বা তার বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট ভবন ছিল হাতে গোনা, কিন্তু এখন ৪০ তলা ভবন আকাশের দিকে উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকায় বর্তমানে ৫০০ ফুটের উচ্চতায় ৫টি ভবনের নির্মাণ চলছে, যার মধ্যে শান্তা পিনাকেলের নির্মাণ শেষ হয়েছে
- 📌 শান্তা পিনাকেল দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন, যা আধুনিক সুবিধাসমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প
- 📌 আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ২০৩৫ সালের জনসংখ্যা ২৫ কোটি হওয়ার কারণে সরকারকে উঁচু ভবন নির্মাণে বিধিনিষেধ তুলে দিতে হবে
- 📌 ৫ শতাংশের কম এলাকায় ব্লক ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে টেকসই উঁচু ভবন নির্মাণ সম্ভব
- 📌 শান্তা হোল্ডিংসের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা শিহাব আহমেদ বলেছেন, ভবনের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ঢাকার আকাশরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। গত শতাব্দীতে নির্মিত বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের উচ্চতা ৪৫০ ফুট ছিল, যা বর্তমানে ঢাকার সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে পরিচিত। তবে চলতি শতাব্দীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিটি সেন্টার, যার উচ্চতা ৫৬১ ফুট। বর্তমানে ঢাকায় ৫০০ ফুটের উচ্চতায় বেশ কয়েকটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে শান্তা পিনাকেলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, যা দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন। এছাড়া ঢাকা টাওয়ার, ট্রপিক্যাল হোমসের টিএ টাওয়ার, সেনাকল্যাণ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের এসকেএস স্কাইরিচ ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমজিআই টাওয়ারের নির্মাণকাজ চলছে।
আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, একসময় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়তি আবাসন সরবরাহ করা। কিন্তু বর্তমানে এগুলো আধুনিক জীবনধারা, আভিজাত্য এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এসব ভবনে সর্বাধুনিক লিফট প্রযুক্তি, স্মার্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএমএস), শক্তিসাশ্রয়ী কেন্দ্রীয় এসি, সুপরিসর পার্কিং এবং পরিবেশবান্ধব ফিচার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০৩৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বেড়ে ২৫ কোটি হতে পারে। তখন সরকারের সামনে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকবে: খাদ্যের সংস্থান এবং আবাসনের চাহিদা মেটানো। এই প্রেক্ষাপটে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। এসব ভবন পরিবেশবান্ধবভাবে নির্মাণ করা সম্ভব। তবে মাথা গোঁজার জন্য উঁচু ভবন নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকলে কৃষিজমি থাকবে না। সে জন্য উঁচু ভবন নির্মাণে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
আদিল মুহাম্মদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বলেছেন, ‘একটি পরিকল্পিত শহরে হাইরাইজ এলাকা সাধারণত ৫ শতাংশেরও কম থাকে। তাই যত্রতত্র ছোট প্লটের পরিবর্তে কেবল সুনির্দিষ্ট স্থানে ব্লক ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে টেকসই উঁচু ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।’
"আমাদের সুউচ্চ ভবন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এসব ভবন পরিবেশবান্ধব হিসেবেও নির্মাণ করা যায়। মাথা গোঁজার জন্য উঁচু ভবন করা না গেলে কৃষিজমি থাকবে না। সে জন্য দু–চারটি ব্যতিক্রম ছাড়া উঁচু ভবন করার ক্ষেত্রে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী আফজাল, আদিল মুহাম্মদ খান, শিহাব আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ তলা, ৪৫০ ফুট, ৫৬১ ফুট, ৫০০ ফুট, ৪০ তলা, ২০ তলা, ৫ শতাংশ, ১০ কাঠা, ৮০–৯০ কাঠা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!