📌 ঢাকার রাস্তায় চলাচলকালে বিভিন্ন অপরাধী ও কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে যাত্রীদের জীবন বিপদে পড়তে পারে। প্রকৌশলী কাজী মনজুর করিম মিতুল বিআরটি প্রকল্পের ব্যর্থতা, হেডলাইটের তীব্রতা, অটোরিকশার অপরাধ, ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি এবং বাস বে ব্যবহারের অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিনের চলাচলকালে বিভিন্ন অপরাধী ও কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে যাত্রীদের জীবন বিপদে পড়তে পারে। প্রকৌশলী কাজী মনজুর করিম মিতুল গত এক সপ্তাহে ঢাকার উত্তরা-গুলশান-উত্তরা রুটে গাড়ি চালিয়ে লক্ষ্য করেছেন যে, বিভিন্ন রাস্তার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্বলতা রয়েছে। তিনি তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং সরকারের নজরে আনার আশায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিআরটি প্রকল্পের ব্যর্থতা: ঢাকা-গাজীপুর রুটের বিআরটি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন অনেকেই, কিন্তু রাস্তায় লেন ডিভাইডার বা মার্কিং না থাকায় নতুন চালকরা ভুল লেনে চলাচল করে বিপদে পড়ছেন।
- 📌 হেডলাইটের তীব্রতা: রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা SUV, বাস ও ট্রাকের উচ্চ হেডলাইটের আলো চালকদের চোখে তীব্র আঘাত করছে। সরকারের প্রাক্তন নিয়মের মতো কালো টেপ বা রং ব্যবহার না করায় আলোর তীব্রতা অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
- 📌 বাস বে ব্যবহারের অপব্যবহার: বাস বে থাকা সত্ত্বেও বাসগুলো চলমান লেনেই দাঁড়িয়ে থাকে, যা ট্রাফিক জ্যামের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব হলো এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা, কিন্তু তাদের মনিটরিং করার কারও নেই।
- 📌 অটোরিকশার অপরাধ: অটোরিকশা চালকরা কোনো সিগন্যালের তোয়াক্কা করে না। তারা স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের সাথে চুক্তিতে বসেই বেপরোয়া চলাচল করছে, যা ক্রমেই সহজাত অপরাধে পরিণত হয়েছে।
- 📌 ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি: ট্রাফিক পুলিশের কাজ এখন চাঁদা নেওয়া। তারা মামলা দিয়ে গাড়ির মালিকদের কাগজপত্র কেড়ে নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির মালিককে চলাচলে বাধা দেওয়ার মামলা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
প্রকৌশলী কাজী মনজুর করিম মিতুল ঢাকার উত্তরা-গুলশান-উত্তরা রুটে গাড়ি চালিয়ে লক্ষ্য করেছেন যে, বিআরটি প্রকল্পের ব্যর্থতা সত্ত্বেও অনেকেই এর সুবিধা ভোগ করছেন। তবে রাস্তায় লেন ডিভাইডার বা মার্কিং না থাকায় নতুন চালকরা ভুল লেনে চলাচল করে বিপদে পড়ছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন কোথাও কোথাও অন্তত একটা রোড সাইন দেওয়া যায় না?
রাতে ড্রাইভ করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা SUV, বাস ও ট্রাকের উচ্চ হেডলাইটের আলো চালকদের চোখে তীব্র আঘাত করছে। এককালে সরকার হেডলাইটের কপাল বরাবর কালো রং বা টেপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল, কিন্তু বর্তমানে LED লাইটের কারণে আলোর তীব্রতা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন যে, বিআরটিএ কেন এই বিষয়ে উদাসীন?
বাস বে থাকা সত্ত্বেও বাসগুলো রাস্তার চলমান লেনেই দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রাফিক পুলিশের কাজ হলো চাঁদা নিয়ে এসব অনিয়মকে নিয়ম বানাতে সহায়তা করা, কিন্তু যাত্রীরাও চলন্ত বাসে ওঠানামা করতে আগ্রহী। তবে ট্রাফিক পুলিশকে মনিটরিং করার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
সিগন্যাল না মানলে ড্রাইভার বা গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয়, কিন্তু অটোরিকশা চালকরা কোনো সিগন্যালের তোয়াক্কা করে না। সম্ভবত, তাদের মালিক সমিতি মাসিক চুক্তিতে চলে এসেছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে। কাজেই তারা ক্রমেই বেয়াদব/বেপরোয়া থেকে সহজাত অপরাধীর পর্যায়ে চলে গেছে।
ট্রাফিক পুলিশের কাজ এখন চাঁদা নেওয়া। তারা মামলা দিয়ে গাড়ির মালিকদের কাগজপত্র কেড়ে নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির মালিককে চলাচলে বাধা দেওয়ার মামলা করা হয়েছে। এমনকি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে জানালার গ্লাসের রং কালো বলে মামলা করা হয়েছে। এমনকি নম্বরপ্লেট ঢেকে গাড়ি চালানোর অপরাধেও মামলা করা হয়েছে।
"আমি এসব নিয়ে আদালত পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম। মন্ত্রণালয়ের ভেতরে থাকা এক শুভাকাঙ্ক্ষী পরামর্শ দিলেন, এসব করে শত্রু বাড়িয়ে লাভ নেই। কাজেই প্রতিদিন অনেক অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে যেমন চলছিলাম, তেমনই চলছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (উত্তরা-গুলশান-উত্তরা রুট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী মনজুর করিম মিতুল (প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি প্রধান সমস্যা (বিআরটি প্রকল্পের ব্যর্থতা, হেডলাইটের তীব্রতা, বাস বে ব্যবহারের অপব্যবহার, অটোরিকশার অপরাধ, ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!