📌 রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ৩২টি বাস রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ৭ দিনের মধ্যে দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পুরো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ৩২টি বাস রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় ঢাকা মহানগরীর বাস রুট পুনর্বিন্যাস, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, স্টপেজ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩২টি বাস রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু**: ঢাকার ৪১৮টি অনুমোদিত বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে সচল ৯৮টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা।
- 📌 **৭ দিনে শুরু হবে বাস্তবায়ন**: আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
- 📌 **৬ মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থা**: ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণের লক্ষ্য ২ মাসের মধ্যে, পুরো ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য ৬ মাসের মধ্যে।
- 📌 **বাস স্টপেজ উন্নয়ন**: তিন মাসের মধ্যে বাস স্টপেজ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য। প্রতিটি স্টপেজে যাত্রী ছাউনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
- 📌 **ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং**: বাস পরিচালনায় কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে।
- 📌 **ফিটনেসবিহীন বাসের মেরামত**: মেয়াদোত্তীর্ণ ও জীর্ণ বাসের মেরামতের জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মেরামত না করা বাস চলাচল করতে পারবে না।
- 📌 **৩৬ হাজার জব্দকৃত যানবাহন**: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থাকায় জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **বৈদ্যুতিক বাসের প্রস্তাব**: ঢাকার আটটি রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস চালানোর উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে।
- 📌 **২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন**: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিদ্ধান্তগুলোর দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৯৮টি রুট সচল রয়েছে। ছোট ছোট রুট এবং একাধিক রুটের মধ্যে ওভারল্যাপিংয়ের কারণে যাত্রী ওঠানামার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি বদলাতে সচল রুটগুলো সমন্বয় করে ৩২টি রুটে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস পরিচালনার পরিবর্তে অনুমোদিত কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাসের ফিটনেস, চালকের আচরণ, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে। সভায় আলোচিত হয় যে, ঢাকার সড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জীর্ণ বাসের কারণে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এসব বাসের প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক মেরামত এবং ডেন্টিং-পেইন্টিংয়ের জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মেরামত না করা বাস চলাচল করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এসব যানবাহন দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নিলাম বা অন্য আইনি প্রক্রিয়ায় যানবাহন নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাস পরিচালনায় কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাসের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রীসেবায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্য রয়েছে।
"২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলোর দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগরী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২টি বাস রুট, ৭ দিন, ৩৬ হাজার যানবাহন, ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!