📌 চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা কাগজের শাড়িতে সাজিয়ে 'যুগান্তরের বার্তা বহন' থিমে সাজানো হয়েছে। সংবাদপত্রের ইতিহাস ও ছাপা অক্ষরের গুরুত্বকে শিল্পের ভাষায় উপস্থাপন করেছে আয়োজন
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা এবার এক বিশেষ বার্তা নিয়ে এসেছেন। এই বার্তাটি হলো সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া সংবাদ ও যোগাযোগের ইতিহাসের গল্প। মণ্ডপের সাজসজ্জা এবং চিত্রকল্পের মাধ্যমে সংবাদপত্রের বিবর্তন এবং ছাপা অক্ষরের গুরুত্বকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরেছে সংঘের আয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের পূজামণ্ডপে 'যুগান্তরের বার্তা বহন' থিমে সাজানো হয়েছে, যেখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা কাগজের শাড়িতে সাজানো হয়েছে
- 📌 মণ্ডপের দেয়ালে দেয়ালে সংবাদপত্রের ইতিহাস, পুরোনো কাগজে গ্রাফিতি, ছাপাখানার প্রতিকৃতি এবং বিভিন্ন যুগের বার্তাবাহকদের চিত্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে
- 📌 দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণ করেছেন সূর্য দাশ, মণ্ডপের সৃজনশৈলী ও চিত্রকল্প নির্মাণে কাজ করেছেন তন্ময় দাশ ও জুয়েল দত্ত
- 📌 পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের সভাপতি পিকলু দেব বলেছেন, 'বার্তা হারিয়ে যায়, বাহনের ইতিহাস থেকে যায়' — এই থিমের মূল প্রতিপাদ্য
- 📌 মণ্ডপে লেখা বাণী: 'খবরের পথ বদলেছে, বদলেছে তার বাহন, মানুষের হাতে আজও চলে যুগান্তরের বার্তা বহন'
📰 বিস্তারিত
দেবী দুর্গার আগমন মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শান্তির বার্তা। তবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের পূজামণ্ডপে এবার দেবী দুর্গা আরেকটি বার্তা নিয়ে এসেছেন — সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া সংবাদ ও যোগাযোগের ইতিহাসের কথা। মণ্ডপের সাজসজ্জা এবং চিত্রকল্পের মাধ্যমে এই ইতিহাসকে শিল্পের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
মণ্ডপের প্রধান ফটক পেরোতেই চোখে পড়ে ঝুড়িভর্তি সংবাদপত্র হাতে এক হকারের দৃশ্য। পাশে কাগজ দিয়ে তৈরি সাইকেল এবং সাইকেলের খাঁচায় সাজানো পত্রিকা। এই দৃশ্য যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই সময়ে, যখন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকা হাতে ছুটে চলতেন হকাররা। তাদের হাত ধরেই খবর পৌঁছে যেত শহর থেকে গ্রামে, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে।
মণ্ডপের ভেতরে রয়েছে সংবাদপত্রের দোকান। সেখানে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানি এবং আগ্রহী পাঠকরা পত্রিকা দেখছেন, পছন্দের সংবাদ খুঁজছেন। মণ্ডপের দেয়ালে দেয়ালে সংবাদপত্রের ব্যবহার, পুরোনো কাগজে গ্রাফিতি এবং নানা চিত্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে। কোথাও কবুতরের ডানায় বার্তা পাঠানোর দৃশ্য, কোথাও ঢোল বাজিয়ে খবর জানানো ঢুলি, আবার কোথাও খবর পৌঁছে দিতে ছুটে চলেছেন রানার। এক কোণে রয়েছে ছাপাখানার প্রতিকৃতি, যা সংবাদপত্র প্রকাশের পেছনে যে শ্রম, প্রযুক্তি ও মানুষের দীর্ঘ যাত্রা, তারই নানা অধ্যায়কে ধরা দিয়েছে মণ্ডপের সাজে।
"যুগান্তরের বার্তা বহন"
মণ্ডপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাঁর শাড়িও তৈরি হয়েছে কাগজ দিয়ে। সংবাদপত্রের অক্ষরে বোনা এই শাড়ি যেন প্রতীকী অর্থে ধারণ করেছে সময়ের বার্তা। দেবী এখানে কেবল অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক নন; তিনি সত্য তথ্য ও শান্তির বার্তাবাহকও। প্রতিমা নির্মাণ করেছেন সূর্য দাশ। মণ্ডপের সৃজনশৈলী ও চিত্রকল্প নির্মাণে কাজ করেছেন তন্ময় দাশ ও জুয়েল দত্ত।
চিত্রকল্পকার তন্ময় দাশের ভাষায়, যুগ বদলায়, কিন্তু মানুষের কাছে সত্য ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব কমে না। বার্তা হারিয়ে গেলেও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বাহনের ইতিহাস থেকে যায়। সেই ভাবনা থেকেই দেবী দুর্গাকে কাগজের শাড়িতে বার্তাবাহক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের সভাপতি পিকলু দেব বলেছেন, ‘এবারের শারদ উৎসবে “যুগান্তরের বার্তা বহন” শিরোনামে আমরা যে থিম করেছি, তাতে আমাদের মূল প্রতিপাদ্য—বার্তা হারিয়ে যায়, বাহনের ইতিহাস থেকে যায়।’ মণ্ডপের বিভিন্ন স্থানে লেখা বাণীগুলোও থিমের ভাবনাকে আরও গভীর করেছে। যেমন, ‘খবরের পথ বদলেছে, বদলেছে তার বাহন, মানুষের হাতে আজও চলে যুগান্তরের বার্তা বহন’। অন্য একটি পঙ্ক্তি মনে করিয়ে দেয় সংবাদপত্রের জন্ম ও বিস্তারের গল্প—‘কালির অক্ষর কাগজ পেল, ছাপা হলো খবর, এক পাতাতেই ছড়িয়ে গেল কত মুহূর্তের খবর’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিকলু দেব (সভাপতি), সূর্য দাশ (প্রতিমা নির্মাতা), তন্ময় দাশ ও জুয়েল দত্ত (চিত্রকল্পকার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (দেবী দুর্গার প্রতিমা কাগজের শাড়িতে সাজানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!