📌 বিজয়া দশমীর দিন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে উদযাপিত শারদোৎসবের শেষ দিনে ভক্তরা আবেগের সাথে দেবীকে বিদায় জানান। নদীর তীরে অনুষ্ঠিত বিসর্জন অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবীর গমন নৌকায় ঘটে, যা শুভ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত
বিজয়া দশমীর দিন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শরতের নীল আকাশে শিউলি ফুলের গন্ধ মিশে ঢাকের বাদ্যের মোহনীয় রেশ কাটিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী বুধবার (২১ অক্টোবর) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘ পাঁচ দিনের আনন্দ-উল্লাসের পর এই বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মন ভারাক্রান্ত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে উদযাপিত শারদোৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 চট্টগ্রামে ২৮২টি মহানগরী ও ১৫টি উপজেলার ২ হাজার ৬২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জন অনুষ্ঠান
- 📌 শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবীর আগমন ঘটে ঘোড়ায়, গমন ঘটে নৌকায় — যা শুভ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত
- 📌 ভক্তরা নদীর তীরে দেবীর চরণে ফুল দিয়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা জানান
- 📌 নদী থেকে পানি তুলে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের গায়ে ছিটিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন ভক্তরা
📰 বিস্তারিত
বিজয়া দশমীর দিন রাজধানীর ওয়াইজঘাট ও বুড়িগঙ্গার তীরে লোকজনের সমাগম ঘটে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার বাদ্যের তালে তালে নগরীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। শঙ্খ, খোল ও ঢাকের বাদ্যের সুরে দেবীর স্তুতি গেয়ে ভক্তরা ট্রাক বা বিশেষ বাহনে করে ঘাটে পৌঁছান। এরপর নৌকাযোগে প্রতিমাগুলো নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় চারপাশের দৃশ্যপট আবেগঘন হয়ে ওঠে। ভক্তদের কারও চোখে চিকচিক করে জল, কারও ঠোঁটে বিরামহীন উচ্চারিত হয় মায়ের বন্দনা।
শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী এবারের দেবী দুর্গার আগমন ঘটে ঘোড়ায়, যা অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে দেবীর গমন ঘটছে নৌকায়, যা শাস্ত্র মতে অত্যন্ত শুভ হিসেবে বিবেচিত। নৌকায় গমনের এই প্রতীক শস্যবৃদ্ধি বা সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনে। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে ভক্তরা যেন বলে দিচ্ছেন, ‘সামনে বছর আবার এসো মা’।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, কর্ণফুলী নদী, ফিরিঙ্গি বাজার, কালুরঘাট ও সীতাকুণ্ডের সলিমপুর সৈকত এলাকায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীর ২৮২টি স্থানে এবং জেলার ১৫টি উপজেলার দুই হাজার ৬২টি মণ্ডপে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। দশমীর সকালে মন্ত্র পাঠ, দেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন এবং আশীর্বাদ নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ দিনের পূজা সম্পন্ন হয়।
"দশমীর লগ্ন শুরু হওয়া মানেই তো মন খারাপের শুরু। মা চলে যাচ্ছেন ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই ক’টি দিন মা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই সময়টা দারুণ আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন এবং সবাইকে ভালো রাখেন।"
— সুস্মিতা, প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা একজন ভক্ত
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ওয়াইজঘাট, বুড়িগঙ্গা), চট্টগ্রাম (পতেঙ্গা, কর্ণফুলী নদী, ফিরিঙ্গি বাজার, কালুরঘাট, সলিমপুর সৈকত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভক্তরা, দেবী দুর্গা, সুস্মিতা, রীতা সোমাদ্দার, বুদ্ধদেব কুন্ডু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপ, ২৮২টি স্থানে চট্টগ্রামে, ১৫টি উপজেলা, ২ হাজার ৬২টি মণ্ডপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!