📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর কারাগারে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্য শুনে মর্মাহত হয়
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসার মানুষ আমাকে প্রয়োজনের সময় পাননি। এখন বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই।’ স্বামীর মৃত্যুর পর দুই বছরের কারাবন্দিত্বের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানরা জামিন চায়, কিন্তু আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করেন
- 📌 দুই বছরের কারাবন্দিত্বের কথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন
- 📌 স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পান
- 📌 ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্যে মর্মাহত হয়
- 📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয়
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দীপু মনির আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দীপু মনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমার আইনজীবী জামিন আবেদন করেছেন। আমি গত দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছি। কিন্তু আদালতের সামনে কথা বলিনি। আজ কিছু বলতে চাই। আমি এখন আর জামিন চাই না। আমার জামিন আবেদন প্রত্যাহার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যা বলেন, তা অনেক চিন্তাভাবনা করে কথা বলেন। আপনি এর আগে জামিন চাওয়ার সময়ে বলেছিলেন যে ‘বাসায় গিয়ে কি করবেন?’ আপনাদের কথাই সত্যি হয়েছে।’
তিনি জানান, তার স্বামী সাত বছর ধরে অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি চোখের ইশারায় কথা বলতেন। দীপু মনি বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর সরকারের দায়িত্ব থাকার সময়েও তাকে আগলে রেখেছি। তার যত্ন নিয়েছি। তখন তার কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আমি কারাগারে থাকায় তাকে বিভিন্ন অজ্ঞাত জায়গায় রাখা হয়েছে।’
দীপু মনি বলেন, ‘আমি আমার ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর কাছে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমার ভালোবাসার মানুষ যখন আমাকে প্রয়োজনের সময়ে পাননি, এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।’
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার বলেন, ‘উই আর সাডেন্ড (আমরা মর্মাহত)। হোয়াটএভার ইউ সেইড, বাট মেনি আদার রিজন হ্যাড টু কনসিডার্ড অ্যান্ড উই থট বোথ সাইডস।’
এদিকে, দীপু মনির জামিন আবেদন প্রত্যাহারের বিষয়টি ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে পেন্ডিং রাখা হয়। শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয় ১৭ সেপ্টেম্বর।
‘ভালোবাসার মানুষ আমাকে প্রয়োজনের সময়ে পাননি। এখন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সন্তানরা আমার জামিন চায়। কিন্তু আমার বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. দীপু মনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই বছর, ৩৯ বছর, ১২ ঘণ্টা, ১৭ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!