📌 হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি, লেবু বাসফোর সভাপতি ও দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালকদের মন্তব্য। তারা বলেছেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে
বাংলাদেশের হরিজন নারীদের জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের অধিকার নিয়ে গভীর বৈষম্যের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, বাসস্থান, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো একসাথে সমাধান করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০১২ সালের সরকারি প্রতিশ্রুতি অমান্য**: হরিজন নারীদের চাকরি ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, ফলে অনেকেরই কাজ হারিয়ে বাসস্থানও হারিয়ে ফেলা হয়েছে।
- 📌 **আউটসোর্সিংয়ের শিকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা**: আউটসোর্সিংয়ের কারণে অনেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরকার ঘোষিত বেতনের চেয়ে কম পাচ্ছেন এবং কাজ হারাচ্ছেন।
- 📌 **শিক্ষিত হরিজন তরুণদের কর্মসংস্থান বঞ্চিত**: শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে, তাদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 **পঞ্চায়েতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি**: হরিজন ঐক্য পরিষদের নির্বাচনে নারীরা অংশ নিচ্ছেন এবং পড়াশোনা করছেন, একদিন তারা পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব দেবেন।
- 📌 **বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ**: রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, ফরিদপুর ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হরিজন নারীদের বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশের সমস্যা রয়েছে।
- 📌 **বাল্যবিবাহের ঝুঁকি**: অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষিত হরিজন মেয়েদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 **উদ্যোক্তা হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার দাবি**: হরিজন নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগ নিতে হবে।
- 📌 **কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা ও নিরাপত্তা**: কর্মক্ষেত্রে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ লাল বলেছেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, বাসস্থান, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো একসঙ্গে দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১২ সালে সরকার তাদের জন্য কিছু নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু যাঁর চাকরি আছে, তাঁরই সুযোগ হয়েছে। চাকরি না থাকলে বাসস্থানের অধিকারও থাকে না। তিনি বলেছেন, "অনেকেরই এই দেশে অন্য কোনো আশ্রয় নেই। নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থান আমাদের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন।"
লেবু বাসফোর সভাপতি লেবু বাসফোর বলেছেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ যে কাজ শুরু করেছিল, তার মাধ্যমে আজ অনেক পিছিয়ে পড়া দলিত নারীরা সামনে এসেছেন। তিনি বলেছেন, "আমরা সব ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি; শুধু দলিত নারী নয়, সব নারীর অধিকার ও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"
সনু রাণী দাস, দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, "নারী হিসেবে বৈষম্য তো আছে, তার সঙ্গে হরিজন পরিচয়ের কারণে আমাদের পথ আরও কঠিন। চাকরির আবেদন করার সময় ঠিকানা দেখেই আমাদের কমিউনিটি শনাক্ত করা হয় এবং কর্মস্থলে নেওয়া হয় না।" তিনি দাবি করেছেন, "আমাদের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদেরও সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে আমরা পেশা পরিবর্তন করতে পারি।"
বিমল ডোম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, "হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আমরা নানা বাধার মুখোমুখি হচ্ছি। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা ডিসি কোর্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় একজন হরিজন নারী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পাননি।" তিনি বলেছেন, "এই ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা কর্মশালা করার উদ্যোগ নিয়েছি।"
"আমাদের মেয়েরা পড়াশোনা করছেন, এলএলবি পড়ছেন। একদিন তাঁরাই পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে আসবেন এবং নিজেদের অধিকার ও কমিউনিটির মানুষের অধিকার নিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে কথা বলবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরনজল্লা, মিরপুর), রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: কৃষ্ণ লাল (সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ), লেবু বাসফোর (সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ), সনু রাণী দাস (নির্বাহী পরিচালক, দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থা), বিমল ডোম (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৬ (বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠা), ২০১২ (গভর্নমেন্টের প্রতিশ্রুতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!