📌 শরদীয় দুর্গোৎসব ও প্রবারণা পূর্ণিমার ছুটির কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। মঙ্গলবার সৈকতে ৮০ হাজার পর্যটক উপস্থিত হলেও, গত অগ্নিকাণ্ডের ভয়ে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে বুকিং কমেছে। বুধবার থেকে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন উৎসবের জন্য আরও বেশি পর্যটক আশা করা হচ্ছে
শরদীয় ছুটির ঢলে কক্সবাজার পর্যটন খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সম্মিলিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। টানা পাঁচ দিনের ছুটির কারণে কক্সবাজারের সৈকত, হিমছড়ি, ইনানী ও মেরিন ড্রাইভে পর্যটকের পদচারণা বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে কমপক্ষে ৮০ হাজার পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। তবে গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভের রিসোর্ট ও কটেজে অতিথির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনশিল্পের কর্মীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮০ হাজার পর্যটক** মঙ্গলবার সৈকতে উপস্থিত, বুধবার থেকে সংখ্যা আরও বাড়বে
- 📌 **৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং** — পাঁচ তারকা হোটেল কক্স টুডেতে ২৪৫টি কক্ষের মধ্যে ৯০ শতাংশ বুক করা
- 📌 **গত অগ্নিকাণ্ডের ভয়ে** মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে বুকিং কমেছে, শহরের হোটেলে বেছে নিচ্ছেন পর্যটকরা
- 📌 **বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন** উৎসবের জন্য লাবণী পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 **১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটক** কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্টে রাতযাপন করছে
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের সৈকত, হিমছড়ি, ইনানী ও মেরিন ড্রাইভে পর্যটকদের পদচারণা বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় ছিল। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন কেউ, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। প্রতিমা বিসর্জনের উৎসব দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসেছেন। তবে গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভের রিসোর্ট ও কটেজে রাতযাপনের বিষয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক পর্যটক আগামী বুকিং বাতিল করছেন এবং শহরের হোটেল বেছে নিচ্ছেন।
হোটেল মালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। পাঁচ তারকা হোটেল কক্স টুডেতে ২৪৫টি কক্ষের মধ্যে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। মাঝারি মানের হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।
ময়মনসিংহের চিকিৎসক সুজয় পাল বলেছেন, ‘পূজার ছুটি কাটাতে এই প্রথম কক্সবাজার আসা। সব মিলিয়ে ভালো কাটছে।’ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামও লম্বা ছুটিতে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বরাবরই আমার কক্সবাজার পছন্দের। এখানে পাহাড়-সমুদ্র একসঙ্গে দেখার সুযোগ আছে।’ সৈকতের নিরাপত্তাব্যবস্থায়ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
"মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের তিনটি পয়েন্টে কমপক্ষে ৮০ হাজার পর্যটক নেমেছেন। বুধবার থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"
সাগরপাড়ের পাঁচ তারকা মানের হোটেল কক্স টুডেতে ২৪৫টি কক্ষ রয়েছে। হোটেলটির ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর মহাব্যবস্থাপক (রিজার্ভেশন) আবু তালেব শাহ। তিনি বলেছেন, ‘মূলত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অতিথির চাপ আছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (সৈকত, হিমছড়ি, ইনানী, মেরিন ড্রাইভ, লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুজয় পাল (চিকিৎসক), আশরাফুল ইসলাম (শিক্ষার্থী), মুকিম খান (কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক), আবুল কাশেম সিকদার (হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি), আবু তালেব শাহ (হোটেল কক্স টুডে মহাব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ হাজার (পর্যটক), ৯০ শতাংশ (কক্ষ বুকিং), ১০ জন (অগ্নিকাণ্ডে নিহত), ১৭ অক্টোবর (অগ্নিকাণ্ডের তারিখ), ২৪৫টি (কক্ষ), ১ লাখ ৮০ হাজার (পর্যটক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!