📌 কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। গত সপ্তাহে ১৪ জন পর্যটক নিহত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও অনুমোদনহীন রিসোর্টের সমস্যা উজাগর হয়েছে।
কক্সবাজারের সাগর সৈকতে বেড়াতে গিয়ে গত সপ্তাহে অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে অন্তত ১৪ জন পর্যটক মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে মেরিন ড্রাইভের পাশে পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে, যেখানে আগুনে নারী ও শিশুসহ দশজন পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। এই দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তার উপর প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত সপ্তাহে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ ১০ জন পর্যটক নিহত, মোট ১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে
- 📌 কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ২০২৩ সাল থেকে টুপটুপ রিসোর্টের অপসারণের জন্য তিন দফায় নোটিশ দিয়েছিল, কিন্তু রিসোর্টটি অপসারিত হয়নি
- 📌 মেরিন ড্রাইভে অনুমোদনহীন ৪০-৫০টি রিসোর্ট রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ২২টি নিবন্ধিত
- 📌 কক্সবাজারে প্রায় ৬০০টি রিসোর্টের মধ্যে মাত্র ১৫০টি ফায়ার লাইসেন্সধারী, বাকি সবই অনুমোদনহীন
- 📌 পর্যটকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও অপরিকল্পিত রিসোর্ট নির্মাণের সমালোচনা করছেন
📰 বিস্তারিত
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজার পর্যটনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিবিসি বাংলাকে কথা বলা শিক্ষার্থী শ্রাবণী ইসলাম বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে, কিন্তু ভ্রমণের সময় ভয়ও লেগেছে। রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, হোটেলে আগুন লাগতে পারে এমন ভয় লেগেছে। আমার বাড়ি থেকে বলা হয়েছিল পানিতে নামা যাবে না এবং দুর্ঘটনাপূর্ণ রাইডে যাওয়া যাবে না।”
সপরিবারে বেড়াতে আসা আইরিন আক্তার ও হাবিবুর রহমান দম্পতি জানান, কক্সবাজারে নিয়মিত ভ্রমণ করলেও সেবা ও নিরাপত্তার অভাব লক্ষ্য করেছেন। তারা বলেন, “কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল বলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিরাপদ থাকতে চাই। এসব ঘটনা আমরা প্রত্যাশা করি না।” হাবিবুর রহমান আরও বলেন, “মেরিন ড্রাইভে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন নেই। যদি একটি স্টেশন থাকতো, তাহলে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমতে পারতো।”
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, “টুপটুপ রিসোর্টে ২০২৩ সাল থেকে তিন দফায় নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। রিসোর্টটি অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা অপসারিত হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে অনেক রিসোর্ট। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে প্রায় ৬০০টি রিসোর্টের মধ্যে মাত্র ১৫০টি ফায়ার লাইসেন্সধারী। ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সময়ে ১২৫টি নবায়নসহ ম্যানুয়েল লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩টি ই-লাইসেন্সের আবেদন ছিল, এর মধ্যে ২৩টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।”
"রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এরকম ভয় হয়েছিল। যে হোটেলে উঠেছি সেখানে নিচে রেস্ট্রুরেন্ট থাকতে পারে, আগুন লাগে কি না- এমন ভয় লেগেছিল। বাসা থেকে বলে দিয়েছে পানিতে নামা যাবে না। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন কোনো রাইডে ওঠা যাবে না।"
"কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল বলেই আজকে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা এগুলো প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই আমরা নিরাপদ থাকতে।"
"ডলফিন মোড় থেকে আমরা যাই যে পাটুয়ার টেক পর্যন্ত এখানে কোনো ফায়ার স্টেশন নেই। যদি একটি স্টেশন থাকতো তাহলে হয়তে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমতে পারতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, মেরিন ড্রাইভ, পাটুয়ারটেক, টুপটুপ রিসোর্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রাবণী ইসলাম, আইরিন আক্তার, হাবিবুর রহমান, প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ জন (মৃত্যু), ১০ জন (টুপটুপ রিসোর্টে), ৪০-৫০টি (অনুমোদনহীন রিসোর্ট), ২২টি (নিবন্ধিত রিসোর্ট), ৬০০টি (মোট রিসোর্ট), ১৫০টি (ফায়ার লাইসেন্সধারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!