📌 টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহত হওয়ার পর মেরিন ড্রাইভের ৮০% রিসোর্ট কক্ষ খালি পড়েছে। কিন্তু শহরের হোটেলে পর্যটকের চাপ বেড়েছে। ১০ লাখ পর্যটকের আগমনের আশা থাকলেও রিসোর্ট মালিকদের ব্যবসায়ে ধস লেগেছে
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে অগ্নিকাণ্ডের ছাপ পড়েছে। টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার ৮০টির বেশি রিসোর্ট-কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়েছে। তবে শহরের হোটেল-গেস্টহাউসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে। পর্যটন মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি মিলিয়ে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটক নিহত — ১৭ অক্টোবর সকালে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- 📌 মেরিন ড্রাইভের ৮০% রিসোর্ট কক্ষ খালি — ৮০টির বেশি রিসোর্ট-কটেজের ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিংহীন।
- 📌 শহরের হোটেলে চাপ বেড়েছে — সোমবার শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে ৯০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন।
- 📌 ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা — অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যার মধ্যে ৪ জনের নাম উল্লেখিত।
- 📌 জাহিদ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড — গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে।
- 📌 ১০ লাখ পর্যটকের আগমনের আশা — দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি মিলিয়ে ১০ দিনে ১০ লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার পর পর্যটন শিল্পে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকার পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট-কটেজগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইনানী সৈকতের সালমান রিসোর্টের ৯টি কক্ষের মধ্যে শুধুমাত্র ৭টি কক্ষে অতিথি ছিল। পরের দিন থেকে কোনো অতিথি আসেনি। পাশের পালকি রিসোর্ট, বিচ ভিউ ও ফাইন ডাইনেও একই অবস্থা। তিনটি রিসোর্টে ৬০ পর্যটক থাকার ব্যবস্থা থাকলেও গতকাল মাত্র ৭জন ছিলেন।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মেরিন ড্রাইভ এলাকার ৮০টির বেশি রিসোর্ট-কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়েছে। অন্যদিকে শহরের হোটেল-গেস্টহাউসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে। সোমবার শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে ৯০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। পরে সেখান থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রোববার বিকেলে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। তবে সোমবার পর্যন্ত এ আবেদনের শুনানি হয়নি।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ২১ অক্টোবর বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ উৎসবের আগে-পরে তিন দিনে অন্তত চার লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। সব মিলিয়ে ১০ দিনের ছুটিতে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক আসবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। তারকা মানের ২০টির বেশি হোটেলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ এবং মাঝারি আকারের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে।
"অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মেরিন ড্রাইভ এলাকার ৮০টির বেশি রিসোর্ট-কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে আছে। অন্যদিকে শহরের হোটেল-গেস্টহাউসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, মেরিন ড্রাইভ, টুপটুপ রিসোর্ট, উখিয়া, লাবণী পয়েন্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুকিম খান (সমিতির সাধারণ সম্পাদক), আবুল কাশেম সিকদার (সমিতির সভাপতি), উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর, জাহিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ (পর্যটক নিহত), ৮০ (শতাংশ কক্ষ খালি), ৯০ হাজার (শহরের হোটেলে পর্যটক), ১০ লাখ (পর্যটকের আগমনের আশা), ২৩ (মামলায় আসামি), ৭ (দিনের রিমান্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!