📌 বিশ্ব পর্যটন দিবসের আওতায় কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, সৈকত ও পাহাড়ের পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের গন্তব্যে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
বিশ্ব পর্যটন দিবসের আওতায় কক্সবাজারকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত, পাহাড়, ঝরনা এবং নীল সমুদ্রের মেলবন্ধন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পর্যটন কেন্দ্র। তবে সম্ভাবনার বিস্তৃতি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৭ সেপ্টেম্বর** বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’
- 📌 **২০২৩ সালের ডিসেম্বর** থেকে কক্সবাজার রেল যোগাযোগে যুক্ত; **আগামী মাসে** আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত হবে
- 📌 **৮৪ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের** মধ্যে **৩২ কিলোমিটার** চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে; **১৩ কিলোমিটার** সড়ক ইতিমধ্যে চার লেনে পরিণত হয়েছে
- 📌 **সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক** নির্মাণের পরিকল্পনা; **সেন্ট মার্টিন দ্বীপে** পর্যটকদের জন্য **আধুনিক জেটিও** নির্মাণ করা হবে
- 📌 **কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)** প্রণয়ন করছে **জেলার মহাপরিকল্পনা** (১ম সংশোধিত); **৬৯০.৬৭ বর্গকিলোমিটার** এলাকায় ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) তৈরির কাজ চলছে
- 📌 **১৭৪ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা** ব্যয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে; **চলতি বছরের ডিসেম্বরে** কাজ শেষ হবে
- 📌 **প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ** পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব পর্যটন দিবসের আওতায় কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কক্সবাজারকে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত, পাহাড়, ঝরনা এবং নীল সমুদ্রের মেলবন্ধন। তবে সম্ভাবনার বিস্তৃতি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার রেল যোগাযোগে যুক্ত হয়েছে। আগামী মাসেই আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত হবে এই পর্যটন কেন্দ্র। সাগরপথেও শুষ্ক মৌসুমে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত থাকা ৮৪ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের মধ্যে ৩২ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে শহরের ১৩ কিলোমিটার সড়ক ইতিমধ্যে চার লেনে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
কক্সবাজার শহর এবং আশপাশের এলাকাকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় জেলার নয়টি উপজেলা, সমুদ্রসৈকত এলাকাসহ ৬৯০.৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এবং পুরো জেলার ২ হাজার ৪৯১.৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য কাঠামো পরিকল্পনা তৈরির কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
গত ২৩ জুলাই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্বে কক্সবাজারের পর্যটন খাত ও জেলার সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী কক্সবাজারে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন, যোগাযোগ, নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান।
"দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে সরকার এখানে বিশ্বমানের পর্যটন হাব করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখান থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াতে পর্যটকদের জন্য একটি আধুনিক জেটিও নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণ করে কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
কউকের মহাপরিকল্পনায় ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকাকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া মূল লক্ষ্য। কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেছেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ কিলোমিটার (সৈকত), ৮৪ কিলোমিটার (মেরিন ড্রাইভ), ৩২ কিলোমিটার (চার লেন সড়ক), ১৩ কিলোমিটার (চার লেন সড়ক), ৬৯০.৬৭ বর্গকিলোমিটার (ড্যাপ এলাকা), ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা (মহাপরিকল্পনা ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!