📌 খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পরিচালিত এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকার মানুষের খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন আগামী দশ বছরে উচ্চমাত্রার কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উপকূলীয় জনপদগুলোর মানুষের খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে বলে এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজনের আগামী দশ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইসিডিডিআরবি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষণায় খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্লেষণ
- 📌 কয়রা ও আশাশুনির ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী দশ বছরে উচ্চমাত্রার হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 কয়রায় খাওয়ার পানির উৎসের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ ও আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা শনাক্ত
- 📌 গবেষণায় খাওয়ার পানির লবণাক্ততা ও উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্কে নতুন প্রমাণ মিলেছে
📰 বিস্তারিত
আইসিডিডিআরবি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের যৌথ গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, উপকূলীয় বাংলাদেশের খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণার আওতায় খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে থাকা ১৭২টি গ্রামের খাওয়ার পানির উৎস পরীক্ষা করা হয়। এসব উৎসের মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ ও আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।
গবেষণায় কয়রা ও আশাশুনির ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জন মানুষের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী দশ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। গবেষণায় কমপক্ষে ১০ শতাংশ ঝুঁকিকে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কয়রায় ঝুঁকির হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনকারী আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘উপকূলীয় বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেই পানিই ক্রমশ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। খাওয়ার পানির লবণাক্ততা এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়। পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’
‘উপকূলীয় বাংলাদেশের লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেই পানিই ক্রমশ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. আলিয়া নাহিদ (আইসিডিডিআরবি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ হাজার ৪৭১ জন, ২১ দশমিক ৬ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!