📌 চট্টগ্রামের ক্লীন্টন সাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও স্থায়ী ঠিকানার অভাবে চাকরি পাননি। নদীভাঙনে বাড়ি-দোকান বিলীন হওয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন
চট্টগ্রামের একটি বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য ক্লীন্টন সাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও স্থায়ী ঠিকানার অভাবে চাকরি পাননি। নদীভাঙনের কারণে বাড়ি-দোকান বিলীন হওয়ায় তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। এই মানবিক সংকটের কারণে তিনি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ক্লীন্টন সাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় **দ্বিতীয় স্থান** অধিকার করলেও চাকরি পাননি।
- 📌 **২১ বছর** ধরে স্থায়ী বাসস্থান না থাকায় তাঁর নিয়োগ হয়নি, যদিও তিনি মেধা-ভিত্তিক সুপারিশ পেয়েছিলেন।
- 📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নদীভাঙনে **সাতবার** তাঁর বাড়ি-দোকান বিলীন হয়েছে, ফলে স্থায়ী ঠিকানা প্রদর্শন করতে পারেননি।
- 📌 **৫৫১ জন** আবেদনের মধ্যে **২৪ জন** কাগজপত্র জমা না দিয়েই বাদ পড়েন, আর **২ জন** (ক্লীন্টন সহ) নিয়োগপত্র পাননি।
- 📌 চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ক্লীন্টন, কারণ স্থায়ী ঠিকানার বিষয়ে প্রশ্নে ভয়ে পড়েছেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা ক্লীন্টন সাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় **দ্বিতীয় স্থান** অধিকার করেন। তবে চূড়ান্ত যাচাইয়ে স্থায়ী ঠিকানার অভাবের কারণে তাঁর নিয়োগ হয়নি। ক্লীন্টন জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘ **২১ বছর** ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন, কিন্তু স্থায়ী বাসস্থান নেই। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তাঁদের আদি বাড়ি ছিল, কিন্তু **২০০৫ সাল** থেকে নদীভাঙনের কারণে সেখানে বসবাস করা সম্ভব হয়নি।
ক্লীন্টন সাহা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আমি চাকরিটা পাইনি। মেধার বিষয়টি বিবেচনা না করে শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।’ তিনি জানান, তাঁদের পরিবার **সাতবার** নদীভাঙনে বাড়ি-দোকান বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা একই পরিবারের সদস্য হিসেবে বসবাস করছেন, কিন্তু কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই।
চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ক্লীন্টন। তিনি বলেন, ‘কোনো চাকরির পরীক্ষা দিতে এখন ভয় লাগে। মনে হয়, লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেও মৌখিক পরীক্ষায় স্থায়ী ঠিকানা জানতে চাইলে আমি কী বলব?’ তিনি মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, ‘কারণ বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। বিষয়টি গোপনীয়। আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।’ তবে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও স্থায়ী ঠিকানার বিষয়টি নিয়োগে প্রভাব ফেলেছে।
"আমি বাংলাদেশের নাগরিক। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আমি চাকরিটা পাইনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম জেলা, ডবলমুরিং থানা, চৌমুহনী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্লীন্টন সাহা (সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (বাস্তুচ্যুত), ১২ জন (তালিকায়), ১০ নম্বর (মেধাতালিকায়), ৫৫১ জন (আবেদনকারী), ২৪ জন (কাগজপত্র জমা না দিয়েছেন), ২ জন (নিয়োগপত্র পাননি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!