📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেতন ও সামগ্রী বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা রোববার (৪ অক্টোবর) এলাকায় উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ থেকে স্বাভাবিক জনজীবনের এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জঙ্গল সলিমপুরে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার** উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ৯ মার্চের আগের অবস্থা থেকে এলাকাটি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে।
- 📌 **১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের** কাজে ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনী এই প্রকল্পে কাজ করছে। সড়ক নির্মাণ শেষ হলে মানুষের চলাচল ও সরকারি সেবা পৌঁছানোর সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
- 📌 **২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের** কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে।
- 📌 **শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের** বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক মাসের বেতন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে আলোচনা চলছে।
- 📌 **১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা** এবং খেলাধুলার সামগ্রী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও চকলেটও দেওয়া হয়।
- 📌 **জাহিদুল ইসলাম মিঞা** মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা রোববার (৪ অক্টোবর) জঙ্গল সলিমপুরে উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’’
জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে এবং সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক পরিদর্শনে সেসব জায়গা, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ দেখেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
পরিদর্শনে আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা এবং ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটও বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত।’’
"‘জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’’ — জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জঙ্গল সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ কিলোমিটার সড়ক, ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ২৫ শতাংশ কাজ, ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!