📌 চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষায় সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে অশুভ শক্তি নষ্ট করতে দেবেন না। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহায়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কোনো অশুভ শক্তি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাউজান পৌরসভার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরে মহাষষ্ঠী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জেলা প্রশাসক জাহিদ বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য শত শত বছর ধরে গড়ে উঠেছে এবং এটিকে অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে
- 📌 ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন — জেলা প্রশাসক এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন
- 📌 ২ হাজার ৫৯৩টি পূজামণ্ডপে এবারের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ১২ হাজার আনসার সদস্য ও ৫ হাজার পুলিশ সদস্য
- 📌 গত বুধবার দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে — জেলা প্রশাসক জানান, কোনো ধর্মীয় বিরোধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 ৫০ বছরের পুরোনো জানিপাথর মন্দিরে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করেন এবং দুটি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দেন
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৪০০টি নতুন সর্বজনীন পূজামণ্ডপ হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে মণ্ডপগুলোতে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘উৎসব কখনো একা করা যায় না, উৎসব হয় সবার’ এবং সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় যান তিনি। এ সময় আনসার, র্যাব ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণে যৌথ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। তিনি হলদিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ঘেরা এলাকায় অবস্থিত জানিপাথর সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ৫০ বছরের পুরোনো মন্দিরে আগে কোনো জেলা প্রশাসক যাননি।
সফরকালে জেলা প্রশাসক রামদয়াল মাঝির বাড়ি দুর্গামন্দির, ডাবুয়া কাকলী সংঘ ও ঢেউয়াপাড়ার জগন্নাথবাড়ি দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দেন। এছাড়া, সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদেরও আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।
"গত বুধবার রাতে দুটি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত কোনো বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে থাকতে পারে।"
জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি সোমবার ও বুধবারের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। তিনি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, চট্টগ্রামে এবারের দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৫৯৩টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তায় প্রায় ১২ হাজার আনসার সদস্য ও ৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআরবি-সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন বলেন, ‘দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবেন।’ জেলা প্রশাসক আরও জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসার কর্মসূচি রয়েছে। এ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সফরসঙ্গী ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম জেলা, রাউজান উপজেলা, শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, হলদিয়া ইউনিয়ন, জানিপাথর মন্দির
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ অক্টোবর (প্রধানমন্ত্রীর আসা), ২ হাজার ৫৯৩টি পূজামণ্ডপ, ১২ হাজার আনসার সদস্য, ৫ হাজার পুলিশ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!