📌 চীন ও বাংলাদেশের শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পে সাংস্কৃতিক বিনিময় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও চীনের উছিয়াও অ্যাক্রোবেটিক আর্ট স্কুলের যৌথ প্রকল্পে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মঞ্চে উত্থান ঘটাচ্ছে
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে অ্যাক্রোবেটিক শিল্প। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও চীনের হেবেই প্রদেশের বিখ্যাত ‘উছিয়াও অ্যাক্রোবেটিক আর্ট স্কুল’ (Wuqiao Acrobatic Art School) যৌথ উদ্যোগে শুরু করেছে এই প্রকল্প। শিল্পের সর্বজনীন ভাষায় দু’টি প্রাচীন সভ্যতার গভীর আত্মিক যোগসূত্র প্রকাশ পাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন ও বাংলাদেশের শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পে সাংস্কৃতিক বিনিময় শুরু হয়েছে, যা ‘উছিয়াও’ অ্যাক্রোবেটিক শিল্পের মাধ্যমে ঘটছে
- 📌 বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে চীনের উছিয়াও স্কুলে, যেখানে দৈনিক ভোর পাঁচটায় শুরু হয় কঠোর অনুশীলন
- 📌 প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পী রত্না বলেছেন, ‘মাস্টারদের ভালোবাসা আর কঠিন অনুশীলন আমাদের শিখিয়েছে ভারসাম্য মনের ভেতরেও তৈরি করতে’
- 📌 মঞ্চে উত্থিত হলে শুধু দৈহিক ভারসাম্য প্রদর্শিত হয় না, বরং চীনা ও বাংলা সুরের মেলবন্ধন দর্শককে অভূতপূর্ব অনুভূতি দেয়
- 📌 কস্টিউম ডিজাইনে চীন-বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বুনন ও কারুকাজের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পোশাক বাণিজ্যেরও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে
- 📌 ঢাকার রাতের আকাশে ২ হাজার ৬০০ ড্রোনের মাধ্যমে ‘নতুন বছর, নতুন বাংলাদেশ’ থিমে সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরো চোখধাঁধানো করে তুলেছে
📰 বিস্তারিত
শিল্প-সংস্কৃতির কোনো মানচিত্র নেই। প্রাচীনকালে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর পদধূলি থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের বুনিয়াদ আজ শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের শিল্পীদের এই গভীর সংযোগের প্রমাণ পাওয়ার জন্য মঞ্চের আলো, সুরের ঝংকার, শারীরিক কসরতের নান্দনিক মহড়া এবং সুতোর নিখুঁত বুনন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও চীনের হেবেই প্রদেশের ‘উছিয়াও অ্যাক্রোবেটিক আর্ট স্কুল’ যৌথ উদ্যোগে শুরু করেছে এই প্রকল্প। চীন-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়টি রচিত হয়েছে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পে। চীনের উছিয়াও কাউন্টিকে বৈশ্বিক অ্যাক্রোবেটিক শিল্পের রাজধানী বলা হয়। হাজার বছরের প্রাচীন এই শিল্পকে চীনা ওস্তাদরা অত্যন্ত কঠোর অনুশাসনে লালন করেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাইকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উছিয়াও ও বেইজিং আর্টস স্কুলে। দৈনিক ভোর পাঁচটায় শুরু হয় তাদের প্রশিক্ষণ। ‘ডিশ স্পিনিং’, ‘সিঙ্গেল ট্যাংকার’, ‘রোলে-বোলে’, ‘চেয়ার সেটিং’ এবং শূন্যে শরীর ঝুলিয়ে ভারসাম্য রাখার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরাতে হয়।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খুদে শিল্পী রত্না সারাবাংলার প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রথমে চীন গিয়ে ভাষা বুঝতে পারতাম না, খাবারও আলাদা ছিল। কিন্তু মাস্টারদের ভালোবাসা আর কঠিন অনুশীলন আমাদের শিখিয়েছে ভারসাম্য কেবল শরীরে নয়, মনের ভেতরেও তৈরি করতে হয়।’
"প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণ কসরতবিদরা যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন সেখানে শুধু দৈহিক ভারসাম্য প্রদর্শিত হয় না; বরং সেখানে ফুটে ওঠে দু’টি প্রাচীন সভ্যতার গভীর আত্মিক যোগসূত্র।"
মঞ্চে উত্থিত হলে শুধু দৈহিক ভারসাম্য প্রদর্শিত হয় না, বরং চীনা শারীরিক কসরতের সময় নেপথ্যে বেজে ওঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত, লালনগীতি কিংবা ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী ও ঢোলের তাল। চীনা কৌশল ও বাংলার সুরের এই মেলবন্ধন দর্শককে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি দেয়। অ্যাক্রোবেটিকের মতো কঠিন মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের ঐতিহ্যকে সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে লালন করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অনন্য নজির।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; বেইজিং, চীন; চীনের হেবেই প্রদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রত্না (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পী), মাস্টারদের, কস্টিউম ডিজাইনার এনামতারা সাকী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৬০০ ড্রোন, ২০ জন শিশু-কিশোর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!