📌 চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে ক্ষতিকর ট্রাইহ্যালোমিথেন (টিএইচএম) পাওয়া গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘকাল এই পানি পান করলে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪২৬ জনের অতিরিক্ত ক্যানসার ঝুঁকি হতে পারে। সংস্থাটি নিজস্ব পরীক্ষা করে না বলে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে
চট্টগ্রামের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ট্রাইহ্যালোমিথেন (টিএইচএম) পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘকালীন পান করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নেদারল্যান্ডসের জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও ওয়াসার দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলে ধরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২০টি পানির নমুনা পরীক্ষায় চার ধরনের ট্রাইহ্যালোমিথেন (টিএইচএম) পাওয়া গেছে, যা ক্লোরিন ও জৈব পদার্থের বিক্রিয়ায় তৈরি হয়
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪২৬ জনের অতিরিক্ত ক্যানসার ঝুঁকি হতে পারে, যদি দীর্ঘকাল এই পানি পান করা হয়
- 📌 চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব পরীক্ষাগারে টিএইচএম পরীক্ষা করে না, কারণ তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই
- 📌 গবেষকরা বলেছেন, পানির জৈব পদার্থ কমিয়ে ক্লোরিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত টিএইচএম পরীক্ষা করা জরুরি
- 📌 নাগরিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় ওয়াসাকে দায়িত্বশীল হতে হবে, যন্ত্র সংগ্রহ ও নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের পানির মান নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি করেছে একটি গবেষণা। চুয়েট ও বুয়েটের গবেষক দল চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহকৃত ১২০টি পানির নমুনা পরীক্ষা করে চার ধরনের ট্রাইহ্যালোমিথেন (টিএইচএম) পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয় পানি জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত ক্লোরিনের সঙ্গে পানিতে থাকা প্রাকৃতিক জৈব পদার্থের বিক্রিয়ায়। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন এই পানি পান করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তারা অনুমান করেছেন, প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪২৬ জনের অতিরিক্ত ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে গবেষকরা বলেছেন, এই সংখ্যা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ এটি দীর্ঘদিন পানির মাত্রা গ্রহণ করলে সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি বৈজ্ঞানিক হিসাব।
বিষয়টি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই, কারণ নগরবাসীরা প্রতিদিন এই পানি পান ও ব্যবহার করেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজে টিএইচএম বা ক্লোরোফর্ম পরীক্ষা করে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ যন্ত্র তাদের নেই। অর্থাৎ, লাখ লাখ মানুষ যে পানি ব্যবহার করছে, তাতে এই রাসায়নিক আছে কি না, তা জানার নিয়মিত ব্যবস্থাই ওয়াসার নেই।
পানি শোধনে ক্লোরিন ব্যবহার বন্ধ করার সুযোগ নেই, কারণ এটি ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয়। তবে ক্লোরিন ব্যবহারের কারণে যাতে অতিরিক্ত টিএইচএম তৈরি না হয়, সে জন্য শোধনপ্রক্রিয়ায় সতর্কতা বাড়াতে হবে। গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পানির জৈব পদার্থ কমানো, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লোরিন ব্যবহার এবং নিয়মিত টিএইচএম পরীক্ষা করা জরুরি। তারা মনে করেন, ওয়াসার নিজস্ব পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্র না থাকলে দ্রুত তা সংগ্রহ করতে হবে। এর আগপর্যন্ত স্বীকৃত পরীক্ষাগারের মাধ্যমে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে টিএইচএমের গড় মাত্রার একটি সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা দরকার।
"নিরাপদ পানি সরবরাহ ওয়াসার দায়িত্ব। যন্ত্র নেই বলে পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান পরীক্ষা হবে না—এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নাগরিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ওয়াসাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষক দল (চুয়েট ও বুয়েট), চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০টি পানি নমুনা, প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪২৬ জনের অতিরিক্ত ক্যানসার ঝুঁকি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!