📌 চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্ণফুলী নদীর তীরে রাঙ্গুনিয়ায় তৃতীয় পানি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়েছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্পে দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের পানির চাহিদা মেটাতে ওয়াসার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে
চট্টগ্রামের বাড়তে থাকা পানির চাহিদা মেটাতে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে একটি নতুন পানি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩’ থেকে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন সরফভাটা এলাকায় বাস্তবায়িত হবে, যেখানে ইতিমধ্যে প্রকল্প-২ চালু রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাইকার অর্থায়নে রাঙ্গুনিয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার তৃতীয় পানি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করবে।
- 📌 প্রকল্প-৩-এর পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প-২-এর বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবহার করা হবে, নতুন পাইপলাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে না।
- 📌 চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, জাইকা প্রকল্পে অর্থায়ন সম্মত করেছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
- 📌 প্রকল্প-২-এর মোট ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে জাইকা দিয়েছে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
- 📌 বর্তমানে প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২ থেকে প্রতিদিন মোট ২৮ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে, যা চট্টগ্রামের পানির চাহিদা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমানে দুটি পানি শোধনাগার প্রকল্প (প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২) রয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প-১ থেকে পানি উত্তোলন করা হয় পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকায়, আর প্রকল্প-২ থেকে সরফভাটা এলাকা থেকে। নতুন প্রকল্প-৩-এর জন্যও একই এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদীর পানি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাকসুদ আলম আরও বলেন, আগে ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস ছিল ৩৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের পানির চাহিদা মোকাবেলায় ওয়াসার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
জাইকার প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এরপর বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
"কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩-এ অর্থায়নে জাইকা সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে জাইকার একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে।"
প্রকল্প-২-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল ২০২২ সালের ১৬ মার্চ। এই প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার এবং মোট ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এতে জাইকা দিয়েছে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম (গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন সরফভাটা এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কোটি লিটার (দৈনিক উৎপাদন), ২৮ কোটি ৬০ লাখ লিটার (বর্তমান উৎপাদন), ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা (প্রকল্প-২-এর মোট ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!