📌 চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়
চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালায়।
- 📌 সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির জন্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা দাবি করে।
- 📌 ঘটনার সময় পুলিশের পাহারা থাকলেও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
- 📌 চট্টগ্রাম শহরে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৮টি আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ।
- 📌 ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ১২৫টি খুনের মামলা হয়েছে।
- 📌 চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে খুন হন ২৫ জন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় অবস্থিত এক ব্যবসায়ীর বাসায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালায়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা হযরত মুয়াজ বিন জবলের শিক্ষক হাফেজ মো. রেজাউল কবির বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ঠাস ঠাস আওয়াজ শুনি। বাচ্চারা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। উঠে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, খালের ওপারের বাড়িতে গুলি হচ্ছে। জানালার গ্লাসগুলো ভাঙা। সন্ত্রাসীরা চলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই এলাকায় আগে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি, শুনিওনি।’
সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির জন্য ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদকে প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত ২ জানুয়ারিও তাঁর বাসায় গুলি করা হয়। ওই ঘটনার পর বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং একটি মামলাও হয়। এরপরও চাঁদা না পেয়ে ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দেন সাজ্জাদ। এতে লেখা হয়, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
চট্টগ্রাম শহরের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটা চিত্র উঠে এসেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। যেখানে পুলিশ পাহারা আছে, সিসি ক্যামেরা আছে, মামলা আছে—তবু সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এসে গুলি করে অস্ত্র উঁচিয়ে চলে যেতে পারে। একই ধারা দেখা গেছে নগরের বায়েজিদ, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, খুলশী, হাটহাজারী–সংলগ্ন এলাকা, এমনকি পতেঙ্গা সৈকতের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গায়ও।
চট্টগ্রাম শহরে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৮টি আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ। এদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন, মোহাম্মদ রায়হান, শহীদুল ইসলাম (বুইস্যা বাহিনীর প্রধান), বার্মা সাইফুল এবং বাকলিয়াকেন্দ্রিক মোরশেদ খান গ্রুপ ও আবদুস সোবহান-শওকত গ্রুপ। তাঁদের বাইরে মুরাদপুর-পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় আছে।
‘সন্ত্রাসীদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাদের কঠোর হাতে দমন করা উচিত।’ — এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজ্জাদ আলী, রেজাউল কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কোটি টাকা, ৫ কোটি টাকা, ১২৫টি খুনের মামলা, ২৫ জন খুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!