📌 চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা, রান্নাঘরে বিড়াল শুয়ে থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগে সরকারি অভিযানে ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসকদের কাছে ডায়রিয়ায় ভুগছেন নুরুল আবছার, যিনি প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন
চট্টগ্রাম নগরে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে সরকারি অভিযানের নতুন তথ্য। গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা, রান্নাঘরে পোকামাকড়ের বিচরণ এবং খাবার তৈরির স্থানে বিড়াল শুয়ে থাকার মতো অপমানজনক দৃশ্য ধরা পড়েছে। এছাড়াও, খোলা ডাস্টবিনের পাশে রান্না ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে ৪২টি হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারে তেলাপোকা ও ছারপোকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ডালডা, কিশমিশ, মসলা ও রুটি তৈরির খামিতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি ছিল
- 📌 একটি হোটেলের রান্নাঘরে খাবার তৈরির স্থানে শুয়ে ছিল বিড়াল — এই অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে
- 📌 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানটিনে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল
- 📌 ডায়রিয়ায় ভুগছেন নুরুল আবছার — চট্টগ্রামের খাজা রোডের বাসিন্দা, যিনি প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন
- 📌 ১ অক্টোবর অভিযানে সিএমসি ক্যাফে ও কর্মচারীদের ক্যানটিনে রুটি তৈরির খামিরে পাওয়া গেছে তেলাপোকা
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম নগরের খাজা রোডের বাসিন্দা নুরুল আবছার দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। কর্মজীবনের কারণে প্রতিদিনই হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার খেতে বাধ্য থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে গাউসুল আজম আরবান ডিসপেনসারিতে যান তিনি। নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহানা বেগম জানান, কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও নগরে আসা লোকজনও প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারে নির্ভরশীল।
সরকারি সংস্থার অভিযানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার তৈরির স্থান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোথাও খাবারের উপকরণে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা, কোথাও রান্নাঘরে পোকামাকড়ের বিচরণ। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে খোলা ডাস্টবিনের পাশে রান্না ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়াও, পোড়া তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, আগস্ট মাসে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জিইসি মোড়ে আল-হেলাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরে খাবার তৈরির স্থানে বিড়াল শুয়ে থাকতে দেখেন।
চট্টগ্রামের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (নগর) মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, খাবার তৈরির স্থান, খাদ্য উপকরণ সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, খাবার তৈরির স্থানে পোকামাকড়ের উপস্থিতি থাকলে খাবার দূষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযানে সিএমসি ক্যাফে ও কর্মচারীদের ক্যানটিনে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সিএমসি ক্যাফের ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। কর্মচারীদের ক্যানটিনে রুটি তৈরির খামিরে পাওয়া যায় তেলাপোকা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, হাসপাতালের মতো জায়গায় খাবার তৈরি ও সংরক্ষণে অনিয়ম রোগী ও তাঁদের স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
"দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যজনিত অসুস্থতা হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি এবং রান্নার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম নগর, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, খাজা রোড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল আবছার, রেহানা বেগম, মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, মো. আবদুর রব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২টি প্রতিষ্ঠান, ১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!