📌 চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা সংবেদনশীল তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে জাহাজ চলাচল, কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনালের কার্যক্রমের তথ্যও আওতায় পড়তে পারে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেছেন, সংবেদনশীল এলাকায় ছবি ধারণ ও সম্প্রচার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা সংবেদনশীল তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের তথ্য প্রকাশকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ এবং ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের সইকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে
- 📌 বন্দরের ‘অপারেশনাল তথ্য’ বলতে জাহাজ চলাচল, কনটেইনার পরিচালনা, পণ্য খালাস, টার্মিনালের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা সহ বিভিন্ন তথ্য বোঝানো হতে পারে
- 📌 বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেছেন, সংবেদনশীল এলাকায় ছবি ও ভিডিও ধারণ ও সম্প্রচার করলে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে
- 📌 নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া তথ্য প্রকাশের কারণে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- 📌 বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ১২ এবং ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করেছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নজরদারি ও যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ছবি, ভিডিও, স্কেচ বা দৃশ্যমান তথ্য অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম প্রথম আলোকে বলেছেন, “সম্প্রতি বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচারও করছেন। এতে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে।”
এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এক সময়ে, যখন চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্দোলন চলছে। এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বন্দর রক্ষা কমিটি। আন্দোলনকারীরা চুক্তি করা হলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
"বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সর্বসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য বন্দরসীমার সব স্থান ও স্থাপনাকে সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই ধারা মূলত বন্দর এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সংবাদমাধ্যমে বন্দরের সাধারণ কার্যক্রম বা অপারেশনাল তথ্য প্রকাশে সামগ্রিক বিধিনিষেধ দেওয়ার বিষয়টি ওই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ রেফায়েত হামীম (বন্দর সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ অক্টোবর (আন্দোলন), ধারা ১২ (বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!