📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপে অবস্থিত একটি মাটির ঘরে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৩২৪টি চিঠি গ্রহণ ও বিতরণ হলেও, বর্তমানে চিঠি পাঠানোর অভ্যাস কমে গেছে। ডাক বিভাগের যন্ত্রপাতি নিরাপত্তার কারণে পটিয়া ডাকঘরে রাখা হলেও, স্থানীয়রা ডিজিটাল সেবা পেতে পারছেন না
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপে একটি মাটির ঘরেই চলছে ডাকঘরের দাপ্তরিক কার্যক্রম। বন্ধ জানালা ও চারটি দরজা সহ এই ঘরটি দূর থেকে দেখলে পুরোনো কাছারিঘর মনে হয়। তবে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, এখানে পোস্টমাস্টার মো. আমির হোসেনের নেতৃত্বে ডাকসংক্রান্ত কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপে অবস্থিত মাটির ঘরেই চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম, যেখানে সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৩২৪টি চিঠি গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়েছিল
- 📌 ৩০৩টি চিঠি ছিল রেজিস্ট্রেশন করা, আর ১ নভেম্বর এক দিনে মাত্র চারটি চিঠি পেয়েছিল ডাকঘর
- 📌 ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তি যন্ত্রপাতি নিরাপত্তার কারণে পটিয়া ডাকঘরে রাখা হলেও, এই মাটির ঘরে ডাকঘরের কাজ চলছে
- 📌 স্থানীয় লোকজন মুঠোফোনের কারণে চিঠি পাঠানোর অভ্যাস কমিয়ে দিয়েছে, তবে আদালতের নোটিশ ও সরকারি কাগজপত্র নিয়মিত আসে
- 📌 একসময় এই ঘরটি সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের কাছারিঘর ছিল, যেখানে শিশুদের মক্তব পরিচালিত হতো
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপের এই মাটির ঘরটি একসময় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের কাছারিঘর ছিল। এখানে একসময় শিশুদের মক্তব পরিচালিত হতো এবং আরবি শেখানো হতো। বর্তমানে পাশের মসজিদে আরবি শিক্ষা চালু রয়েছে। ঘরটির তিনটি কক্ষ তালা দেওয়া রয়েছে, আর অপর কক্ষে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম।
পোস্টমাস্টার মো. আমির হোসেন জানান, বর্তমানে চিঠি বাইরে তেমন একটা যায় না, শুধু আসে। প্রতিদিন ১১টার সময় বাইরে দেয়ালে টাঙানো চিঠির বাক্স খোলা হয়, কিন্তু তাতে কেউ চিঠি ফেলে না। সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৩২৪টি চিঠি বা ডকুমেন্টস গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০৩টি ছিল রেজিস্ট্রেশন করা চিঠি। ১ নভেম্বর এক দিনে মাত্র চারটি চিঠি পেয়েছিল ডাকঘর, যার মধ্যে দুটি তৈলার দ্বীপে, একটি বারখাইন এবং একটি শোলকাটা এলাকায় বিতরণ করা হয়েছিল।
পিয়ন মিজানুর রহমান ও রানার আলী আকবর এই চিঠি বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, একসময় ডাকঘরটি চিঠিপত্র পাঠানো ও গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে মুঠোফোনের কারণে চিঠি আদানপ্রদান কমে গেছে। তবে ডাকঘরের আবেদন কমেনি।
ডাক বিভাগের আঞ্চলিক পরিদর্শক (পটিয়া) রাজীব দাশ বলেন, ‘তৈলার দ্বীপ ডাকঘরের নিজস্ব ভবন ও জায়গা না থাকায় মাটির ঘরে আমাদের দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তি ডিভাইসগুলো নিরাপত্তার অভাবে সেখানে রাখা হয়নি।’
"এখন চিঠি তেমন একটা বাইরে যায় না, শুধু আসে। বাইরে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা চিঠির বাক্সও প্রতিদিন ১১টার সময় খোলা হয়। কিন্তু তাতে পাঠানোর জন্য কেউ চিঠি ফেলে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, আনোয়ারা উপজেলা, তৈলার দ্বীপ ডাকঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আমির হোসেন (পোস্টমাস্টার), মিজানুর রহমান (পিয়ন), আলী আকবর (রানার), নুরুল আলম (স্থানীয় বাসিন্দা), রাজীব দাশ (ডাক বিভাগের আঞ্চলিক পরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২৪টি চিঠি (সেপ্টেম্বর মাসে), ৩০৩টি রেজিস্ট্রেশন করা চিঠি, ৪টি চিঠি (১ নভেম্বর), ৫ হাজার ৫০৬টি ডাকঘর (২০১৭ সালে ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তরিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!