📌 চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দেড় মাসে ৯টি বৈদ্যুতিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫টি ট্রান্সফরমারসহ কেবল ও লাইটের যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। বিমান অবতরণের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দেড় মাসে ৯টি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মূল্যের কেবল ও লাইটের যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়েতে বারবার চুরির ঘটনা ঘটার কারণে বিমান অবতরণের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ও এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেনরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়েতে দেড় মাসে ৯টি বৈদ্যুতিক চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৫টি ট্রান্সফরমারসহ কেবল ও লাইটের যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে
- 📌 ২১ আগস্ট থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রানওয়েতে বারবার ট্রান্সফরমার, আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল, রানওয়ে লাইট ও ফেজ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে
- 📌 রানওয়ের বাইরে থেকে ওভারহেড কেবলও চুরি হয়ে যাচ্ছে, যা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত করতে পারে
- 📌 বিমান অবতরণের সময় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে বিশেষ করে রাতে আলো না থাকলে বিমান অবতরণ সম্ভব হবে না
- 📌 বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক জিয়া উদ্দিন দাবি করেছেন, ৯টি চুরির ঘটনা শোনেননি, তবে ২টি ঘটনা শুনেছেন এবং তা সমাধান হয়েছে
- 📌 বিমানবন্দরে ৬৩৫ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছে, যার মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীতে ১৫০ জন, আনসার ২০০, এপিবিএন ১০৫ এবং বিমানবাহিনীর সদস্য ১৮০ জন
- 📌 এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন সুলতান আহম্মেদ বলেছেন, রানওয়ের বিদ্যুৎব্যবস্থা খারাপ হলে বিমান অবতরণ সম্ভব হবে না
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দেড় মাসে ৯টি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কেবল ও লাইটের যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। বিমানবন্দরের সূত্রে জানা গেছে, চোরেরা রানওয়েতে মাটি খুঁড়ে প্রায় চার ফুট নিচে থেকে কেবল নিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় রানওয়ে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল, রানওয়ের লাইট, লাইটের ফেজ ও লুপিং নিয়ে গেছে চোরেরা।
২১ আগস্ট রাতে রানওয়ের ০৫ এন্ড প্রান্তে একটি ট্রান্সফরমারসহ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেবল কেটে নিয়ে যায় চোরের দল। এরপর ২ সেপ্টেম্বর রাতে রানওয়ের কার্গো ওয়্যারহাউসের পশ্চিম সীমানা থেকে ০৫ এন্ড পর্যন্ত সিকিউরিটি লাইটের আধা কিলোমিটার কেবল কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা অন্ধকার হয়ে যায়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকার দুটি ট্রান্সফরমারসহ অ্যাপ্রোচ লাইটের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেবল কেটে নিয়ে যায়।
১০ সেপ্টেম্বর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকার তিনটি ট্রান্সফরমারসহ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেবল কেটে নিয়ে যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর ২৩ এলাকার এন্ডে (বোট ক্লাবের কাছে) ছয়টি ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্রোচ লাইটের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেবল কেটে নিয়ে যায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ও ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকা থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমারসহ কেবল কেটে নিয়ে যায়। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকা থেকে তিনটি ট্রান্সফরমারসহ কেবল কেটে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাগুলোতে বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, রানওয়ে এলাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেসের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান জানান, রানওয়ে এলাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে এবং চুরির বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
"রানওয়ের বিদ্যুৎব্যবস্থা খারাপ হলে বিশেষ করে রাতে আলো না থাকলে বিমান অবতরণ সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বৃষ্টি বা কুয়াশার সময় পর্যাপ্ত আলো না থাকলেও বিমান অবতরণ সম্ভব হয় না। বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।"
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক জিয়া উদ্দিন দাবি করেছেন, ৯টি চুরির ঘটনা শোনেননি। তবে তিনি জানান, ২টি চুরির ঘটনা শুনেছেন এবং তা সমাধান হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৬৩৫ জনবল রয়েছে। এর মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীতে রয়েছে ১৫০ জন, আনসার ২০০, এপিবিএন ১০৫ এবং বিমানবাহিনীর সদস্য ১৮০ জন।
এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন সুলতান আহম্মেদ বলেছেন, রানওয়ের বিদ্যুৎব্যবস্থা খারাপ হলে বিশেষ করে রাতে আলো না থাকলে বিমান অবতরণ সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রানওয়ের ০৫ এন্ড ও ২৩ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাপ্টেন সুলতান আহম্মেদ, তারেক জিয়া উদ্দিন, আনিসুর রহমান, পারভেজ আলী, গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেন, এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বার চুরি, ২৫টি ট্রান্সফরমার, ৬৩৫ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ১৫০ জন সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা বাহিনী, ২০০ জন আনসার, ১০৫ জন এপিবিএন, ১৮০ জন বিমানবাহিনী সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!