📌 চলনবিলের কোল ঘেঁষে অবস্থিত চাটমোহরের পুরাতন বাজার শতাব্দী ধরে বাণিজ্য ও সাহিত্যের ইতিহাস বহন করছে। প্রমথ চৌধুরীর আত্মকথা থেকে শুরু করে গুপ্তযুগের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পর্যন্ত এই এলাকার গভীর ঐতিহাসিক মূল্য উন্মোচিত হয়েছে
চলনবিলের মাঝখানে অবস্থিত চাটমোহর উপজেলা একসময় ছিল বাণিজ্য ও সাহিত্যের জীবন্ত কেন্দ্র। প্রমথ চৌধুরীর আত্মকথা থেকে শুরু করে গুপ্তযুগের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার পর্যন্ত এই এলাকার গভীর ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি আজও স্পন্দিত হচ্ছে। বিশেষত চাটমোহরের ‘পুরাতন বাজার’ শতাব্দী ধরে এলাকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রমথ চৌধুরী তাঁর আত্মকথায় উল্লেখ করেছেন, ‘আমি ছেলেবেলায় কৃষ্ণনগরে সাড়ে এগারো মাস এবং হরিপুরে পনেরো দিন বসবাস করতাম’ — যা চাটমোহরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
- 📌 ৯ সেপ্টেম্বর পাবনার চাটমোহর উপজেলায় প্রবেশের সময় প্রমথ চৌধুরীর সেই মুগ্ধতা আজও বাজারের ঐতিহাসিক আভিজাত্য বহন করে চলেছে।
- 📌 গুপ্তযুগের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে চলনবিল অঞ্চলের প্রাচীন বসতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- 📌 পঞ্চদশ শতাব্দীতে চাটমোহর ছিল ধান, পাট, খেসারি ডাল, তিল ও মরিচের বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র — ৫৪টি নদী-নদীর ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন।
- 📌 ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বর্ণমুদ্রা ‘মোহর’ চটের থলিতে লুকিয়ে নিয়ে আসতেন — এই অভ্যাসের কারণে এলাকাটির নাম হয় ‘চাটমোহর’।
- 📌 ব্রিটিশ শাসনামলে চাটমোহর বাজার ছিল নাটোর, পাবনা, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের মোকাম হিসেবে কাজ করত।
📰 বিস্তারিত
চলনবিলের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত চাটমোহর উপজেলা একসময় ছিল বাণিজ্য ও সাহিত্যের জীবন্ত কেন্দ্র। প্রমথ চৌধুরী তাঁর লেখনীতে হরিপুরের সেই মুগ্ধতা বর্ণনা করেছেন, যা আজও বাজারের ঐতিহাসিক আভিজাত্য বহন করে। পাবনা জেলার মানচিত্রে চাটমোহর উত্তর-পশ্চিম কোণে দাঁড়িয়ে আছে, যা ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রতীক। এই অঞ্চলটি বৃহত্তর চলনবিলের কোল ঘেঁষে এবং প্রাচীন বড়াল নদের তীরে গড়ে উঠেছে।
চাটমোহর পুরাতন বাজার একসময় ছিল চলনবিল অঞ্চলের প্রধান নৌবাণিজ্য কেন্দ্র। ঐতিহাসিক নথিপত্র ও আলেকজান্ডার কানিংহামের মতো প্রত্নতত্ত্ববিদদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই এলাকাটি প্রাচীনকাল থেকেই উন্নত জনবসতি ছিল। গুপ্তযুগের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে এই দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে চাটমোহর ছিল ধান, পাট, খেসারি ডাল, তিল ও মরিচের বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। চারপাশের ৫৪টি নদী-নদীর ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। তবে নদীপথে ডাকাতদের প্রচণ্ড উপদ্রব ছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বর্ণমুদ্রা বা ‘মোহর’ চটের থলিতে লুকিয়ে নিয়ে আসতেন। এই অভ্যাসের কারণে এলাকাটির নাম হয় ‘চাটমোহর’।
ব্রিটিশ শাসনামলে চাটমোহর বাজার ছিল নাটোর, পাবনা, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের মোকাম হিসেবে কাজ করত। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী তিলি বা কুণ্ডু সম্প্রদায়ের হাত ধরে এই বাজার বিকশিত হয়েছিল। বাজারের ঐতিহাসিক ভবনে বসে সত্তরোর্ধ্ব মো. হাশেম আলী বলেছেন, ‘আজ থেকে শতাব্দী আগের স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে’।
"আমি ছেলেবেলায় কৃষ্ণনগরেই বাস করতুম সাড়ে এগারো মাস আর হরিপুরে পনেরো দিন। কিন্তু হরিপুর আমরা সঙ্গেই এনেছিলুম, তার মানসিক আবহাওয়াও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাটমোহর উপজেলা, পাবনা জেলা, চলনবিলের কোল ঘেঁষে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রমথ চৌধুরী, মো. হাশেম আলী, আলেকজান্ডার কানিংহাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ সেপ্টেম্বর, ৫৪টি নদী-নদী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!