📌 চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আর্থিক বিরোধের জেরে কসাই নুর মোহাম্মদকে হত্যার অভিযোগে সুজন সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ঘটনার দশ বছর পর ঘোষিত রায়ে অন্য তিন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কসাই নুর মোহাম্মদকে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মতলব দক্ষিণ উপজেলায় কসাই নুর মোহাম্মদকে হত্যার অভিযোগে সুজন সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 আদালত সুজন সরকারকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করেন
- 📌 হত্যার ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের পাশে
- 📌 মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ দশ বছরের তদন্ত শেষে রায় ঘোষণা করা হয়
- 📌 অভিযুক্ত অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রমাণের অভাবে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আর্থিক বিরোধের জেরে কসাই নুর মোহাম্মদকে হত্যার অভিযোগে সুজন সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করেন। ঘটনার দশ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মরহুম নুরুল ইসলামের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও গোশত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইউনুছ তালুকদারের খালি জমিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে গ্রাম পুলিশ নিমাই দাস স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: জাকির হোসেনকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করে। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ দশ বছরে মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
"দীর্ঘ দশ বছরের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালত সঠিক রায় প্রদান করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মতলব দক্ষিণ উপজেলা, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুজন সরকার, নুর মোহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২, ৩৫, ৫০ হাজার, ২৭ আগস্ট, ২ মার্চ, ৩ মার্চ, ২৯ অক্টোবর, ২৫ মে, ১০ বছর, ১৮ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!