📌 যশোরের চাঁচড়া শ্রীহরি মন্দিরে চার যুগের ধর্মীয় কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১০১টি প্রতিমায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজনে এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। যশোরের ৭৪৩টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে
যশোরের চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে চার যুগের ধর্মীয় কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১০১টি প্রতিমায়। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগের নানা পৌরাণিক চরিত্রের রূপকথা এখানে শিল্পকর্মের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপটি শারদীয় দুর্গোৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয়দের সাথে সাথে দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ষড়যন্ত্রে এক মন্দিরে ১০১টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে চার যুগের ধর্মীয় কাহিনির সাথে জড়িত
- 📌 প্রতিমাগুলোতে সরস্বতী, শিব, রাধা-কৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাম-সীতা, হনুমান, কপূতা রাক্ষসী, কুম্ভকর্ণ, জগদ্ধাত্রী, কালী, মনসা সহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিকৃতি রয়েছে
- 📌 মৃৎশিল্পীদের দুই মাসের পরিশ্রমে তৈরি এই প্রতিমাগুলো এখন রঙের কাজে শেষ মুহূর্তে রয়েছে
- 📌 যশোরের ৭৪৩টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত
📰 বিস্তারিত
চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজনে ১০১টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে। এই প্রতিমাগুলোতে চার যুগের ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমাগুলোতে সরস্বতী, শিব, রাধা-কৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাম-সীতা, হনুমান, কপূতা রাক্ষসী, কুম্ভকর্ণ, জগদ্ধাত্রী, কালী, মনসা সহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিকৃতি রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের টানা দুই মাসের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাঁচা মাটির কাঠামো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এসব প্রতিমায়। এখন শেষ মুহূর্তে রঙের কাজ চলছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, এই আয়োজন সনাতন ধর্মের নতুন প্রজন্মকে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় শিক্ষা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। স্থানীয় বাসিন্দা শিপ্রা বর্মন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর অন্য এলাকায় যাই প্রতিমা দেখতে। এবার আমাদের গ্রামে এত সুন্দর একটা পূজা হচ্ছে, এটা আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল।’ অন্য এক স্থানীয় দীপঙ্কর বর্মন বলেন, ‘আমাদের বর্মণপাড়াতে ১০১টি প্রতিমার মাধ্যমে সনাতন ধর্মের চার যুগ তুলে ধরা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে হিন্দু ধর্মের যুগে যুগে যে পরিবর্তন, তা দেখে ভালো লাগছে এবং নতুন কিছু শিখতে পারছি।’
বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ জানান, ‘সারা বিশ্বে যে অশান্তি চলছে, আমরা শান্তির বার্তা আনার জন্য এই থিমটা তৈরি করেছি। সনাতন ধর্মের চারটি যুগ আছে—সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। এই যুগ অনুসারে দুষ্টদের দমন করার জন্য যুগে যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। সেই ভাবটাই এখানে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অনেক দর্শনার্থী আসা শুরু করেছেন।’
"আমাদের এই থিমটা তৈরি করেছি শান্তির বার্তা আনার জন্য। চার যুগের কাহিনি প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।"
মন্দিরের ভাস্কর আকাশ মণ্ডল বলেন, ‘চার যুগের কাহিনিতে দুই মাস ধরে প্রতিমাগুলো তৈরি করেছি। ইতিমধ্যে রঙের কাজও শেষের দিকে। রাতদিন কাজ করছি, সামান্য কিছু সাজসজ্জার কাজ বাকি রয়েছে। দর্শনার্থীরা দেখতে এসে যখন কাজের প্রশংসা করছেন, তখন মন আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছে।’
যশোরের আটটি উপজেলায় এবার মোট ৭৪৩টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সবখানেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজা উদযাপন পরিষদ যশোরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন জানান, গত বছরের চেয়ে এবার ২৮টি বেশি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মণ্ডপে ডিজে না বাজিয়ে ভক্তিগীতি বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
জেলার মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। শঙ্কাহীন পরিবেশে যেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁচড়া বর্মণপাড়া, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিপ্রা বর্মন, দীপঙ্কর বর্মন, শিমুল বর্মণ, আকাশ মণ্ডল, দীপঙ্কর দাস রতন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০১টি প্রতিমা, চার যুগের কাহিনি, ৭৪৩টি মন্দির, ৩৭টি প্রতিমা, ২৮টি বেশি মণ্ডপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!