📌 পুরান ঢাকার চম্পাতলী এলাকায় অবস্থিত চম্পা বিবির ৩৫৫ বছর পুরনো সমাধি রহস্যময়। শায়েস্তা খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সমাধিসৌধের অবস্থা দুর্বল হলেও এটি ঢাকার মোগল স্থাপত্যের অন্যতম স্মৃতিচিহ্ন
পুরান ঢাকার চম্পাতলী এলাকায় অবস্থিত একটি লুকিয়ে থাকা সমাধি ৩৫৫ বছর ধরে ইতিহাসবিদদের মাথা ঘামিয়ে রেখেছে। সাড়ে তিন শতাব্দী আগের এই সমাধি চম্পা বিবির, যিনি ঢাকার মোগল যুগে বসবাস করতেন। এই সমাধি বর্তমানে হাকিম হাবিবুর রহমান লেনের পাশে, ছোট কাটরার কাছাকাছি অবস্থিত। তবে এর অবস্থা খুবই দুর্বল — গম্বুজে শেওলা জমা হয়েছে এবং চারপাশে লতাগুল্মের আচ্ছাদন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চম্পা বিবির সমাধি পুরান ঢাকার চম্পাতলী এলাকায় অবস্থিত, যা ১৬৭১ সালে নির্মিত হয়েছিল শায়েস্তা খানের নির্দেশে।
- 📌 সমাধির অবস্থা খুবই দুর্বল — গম্বুজে শেওলা জমা, চারপাশে লতাগুল্মের আচ্ছাদন, এবং নিয়মিত পরিচর্যার অভাব।
- 📌 চম্পা বিবির পরিচয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে — কেউ বলেন তিনি শায়েস্তা খানের কন্যা, কেউ স্ত্রী, আর কেউ উপপত্নী।
- 📌 সমাধিসৌধের আকার বর্গাকার, প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৭.২৭ মিটার, এবং এক গম্বুজবিশিষ্ট।
- 📌 ছোট কাটরার সম্পত্তি বহু হাতবদলের মধ্য দিয়ে গেছে, ফলে সমাধির সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পুরান ঢাকার সরু গলিতে লুকিয়ে আছে চম্পা বিবির সমাধি। এই সমাধি সাড়ে তিন শতাব্দী পুরনো, কিন্তু এর পরিচয় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সমাধির ফটকে লেখা আছে, ‘ছোট কাটারা স্থিত চম্পা বিবির মাজার, সায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত’। তবে চম্পা বিবির পরিচয় নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি কে ছিলেন, তার কোনো ছবি নেই, বংশপরিচয়ও নিশ্চিত নয়।
চম্পা বিবির সমাধি বর্তমানে হাকিম হাবিবুর রহমান লেনের পাশে অবস্থিত। এই এলাকাটি সারি সারি দোকানের আড়ালে লুকিয়ে আছে। সমাধির অবস্থা খুবই দুর্বল — গম্বুজে শেওলা জমা হয়েছে, চারপাশে লতাগুল্মের আচ্ছাদন, এবং মেঝে থেকে উঁচু করে বাঁধাই করা কবরটি সাদা গিলাফে ঢাকা। ভেতরে দেয়ালের পলেস্তারা কোথাও কোথাও ঝরে পড়েছে, যা নিয়মিত পরিচর্যার অভাবের প্রমাণ দেয়।
চম্পা বিবির সঙ্গে শায়েস্তা খানের সম্পর্ক নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুনের বইয়ে চম্পা বিবিকে শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বইয়ে তিনি তাকে নবাবের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর হাকিম হাবিবুর রহমানের মতে তিনি ছিলেন উপপত্নী। রহমান আলী তায়েশের বইয়ে বলা হয়েছে, চম্পা বিবি নবাবের স্ত্রী বা উপপত্নী হতে পারেন। ফলে চম্পা বিবির পরিচিতি নিশ্চিত হতে পারেননি ঐতিহাসিকেরা।
চম্পা বিবির সমাধিসৌধটি এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার নির্মাণ। প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৭.২৭ মিটার। সমাধির চারপাশের প্রতিটি দেয়ালের মাঝবরাবর একটি করে দরজা রয়েছে, এবং এই দরজাগুলোর দুই পাশে সরু মিনার দিয়ে অলংকৃত। ছাদের ওপর অবস্থিত একমাত্র গম্বুজটি আট কোনাকৃতির ড্রামের ওপরে অবস্থিত। আদিতে সমাধিটি ছিল ছোট কাটরার প্রাঙ্গণের ভেতরে, কিন্তু পরে ছোট কাটরার সম্পত্তি অনেক হাতবদলের মধ্য দিয়ে গেছে। ইতিহাসের স্মারক হিসেবে এই সমাধির সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।
"ছোট কাটারা স্থিত চম্পা বিবির মাজার, সায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাকিম হাবিবুর রহমান লেন, পুরান ঢাকা, চম্পাতলী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চম্পা বিবি, শায়েস্তা খান, হাকিম হাবিবুর রহমান, মুনতাসীর মামুন, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫৫ বছর (সমাধির বয়স), ৭.২৭ মিটার (সমাধির প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!