📌 প্রাণীরা মানুষের ভাষা বুঝতে পারে কিনা তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে গবেষণা। ক্লেভার হ্যান্স ঘোড়া থেকে শুরু করে কোকো গরিলা ও কানজি বোনোবো—বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাণীর ভাষা বোঝার ক্ষমতা পরীক্ষা করেছেন
মানুষের ভাষা বোঝার ক্ষমতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। জার্মানির ক্লেভার হ্যান্স নামের একটি ঘোড়া নিয়ে করা পরীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রাণীরা মানুষের ভাষা সরাসরি না বুঝলেও প্রশিক্ষকের অঙ্গভঙ্গি ও মুখের অভিব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করে সাড়া দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্লেভার হ্যান্স ঘোড়াটি মানুষের ভাষা বুঝত না, বরং প্রশিক্ষকের মুখের অভিব্যক্তি দেখে উত্তর দিত
- 📌 সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন টাউনসেন্ড প্রাইমেটদের ভাষা বোঝার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করেছেন
- 📌 কোকো নামের গরিলাটি প্রায় ১ হাজার ইশারা ও ২ হাজার ইংরেজি শব্দের জবাব দিতে পারত
- 📌 কানজি নামের বোনোবো বানরটি বিশেষ কিবোর্ড ব্যবহার করে বস্তুর নাম ও কাজ প্রকাশ করত
- 📌 কুকুরেরা মানুষের স্বর ও অঙ্গভঙ্গি বুঝতে বিশেষভাবে পারদর্শী; চেজার নামের একটি কুকুর ১ হাজারেরও বেশি শব্দ শিখেছিল
📰 বিস্তারিত
১৯০০ সালের দিকে জার্মানিতে ক্লেভার হ্যান্স নামে একটি ঘোড়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ঘোড়াটির মালিক দাবি করেন, হ্যান্স মানুষের কথা বুঝতে পারে এবং কঠিন অঙ্কের হিসাব করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের একটি দল পরীক্ষা করে দেখেন, ঘোড়াটি আসলে প্রশিক্ষকের মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের নড়াচড়া দেখে সঠিক উত্তর দিত। এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রাণীরা মানুষের ভাষা সরাসরি না বুঝলেও প্রশিক্ষকের ইঙ্গিত অনুসরণ করতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন টাউনসেন্ড প্রাইমেটদের ভাষা বোঝার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর মতে, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিছু প্রাণী মানুষের নির্দিষ্ট শব্দ ও তার অর্থ বুঝতে পারে। তবে পুরো ভাষা আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে এখনও অনেক বিতর্ক রয়েছে।
প্রাণীদের ভাষা বোঝার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো কোকো নামের একটি গরিলা। কোকো সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারার ভাষা শিখেছিল এবং প্রায় ১ হাজার ইশারা করতে পারত। এছাড়া সে ২ হাজারের বেশি ইংরেজি শব্দের জবাব দিতে পারত। তবে গবেষকদের মতে, কোকোর ইশারাগুলোর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে অর্থহীনতা ছিল এবং প্রশিক্ষকেরা নিজেদের মতো করে এর অর্থ ধরে নিতেন।
অন্যদিকে কানজি নামের একটি বোনোবো বানর বিশেষ একটি কিবোর্ড ব্যবহার করত, যেখানে প্রায় ২০০টি প্রতীক আঁকা ছিল। কানজি সেই প্রতীক স্পর্শ করে বস্তুর নাম, জায়গা ও কাজের কথা প্রকাশ করত। এছাড়া সে ইশারা ও গলার আওয়াজে হ্যাঁ বা না প্রকাশ করতে পারত। তবে মানুষের ভাষার মতো ব্যাকরণ মেনে প্রতীকগুলো সাজিয়ে জটিল বাক্য তৈরি করতে পারত না।
কুকুরেরা মানুষের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পারদর্শী। প্রায় ১৪ হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে বসবাসের ফলে কুকুরেরা মানুষের স্বর ও অঙ্গভঙ্গি বুঝতে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমনকি শব্দ বিকৃত হলেও তারা তা বুঝতে পারে। চেজার নামের একটি বর্ডার কলি জাতের কুকুর ১ হাজারেরও বেশি শব্দ শিখেছিল।
"প্রাণীরা মানুষের ভাষা সরাসরি না বুঝলেও প্রশিক্ষকের ইঙ্গিত ও অঙ্গভঙ্গি অনুসরণ করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানি, সুইজারল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইমন টাউনসেন্ড, ক্লেভার হ্যান্স, কোকো, কানজি, চেজার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার, ২ হাজার, ২০০, ১৪ হাজার, ১ হাজারেরও বেশি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!