📌 বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রথমবারের মতো ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি জরিপ করছে। ১ অক্টোবর শুরু হওয়া জরিপে তথ্য সংগ্রহকারীদের বাধা ও অপারগতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। জরিপের ফলাফল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা হবে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনমান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করছে। ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই জরিপ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা, দারিদ্র্যের হার এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে ১ অক্টোবর থেকে চলমান জরিপ ২৫ অক্টোবর শেষ হবে
- 📌 তথ্য সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি
- 📌 ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে তথ্য সংগ্রহে বাধা ও অপারগতার সম্মুখীন হয়েছে সংগ্রহকারীদের
- 📌 জরিপের প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা বলেছেন, তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা
- 📌 জরিপের মোট ব্যয় ২৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত
📰 বিস্তারিত
বিবিএসের কর্মকর্তারা জানান, এই জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে কোন সম্প্রদায় বেশি পিছিয়ে রয়েছে এবং কারা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করা হবে। জরিপে ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে বাঙালি জনগোষ্ঠী এ জরিপের আওতাভুক্ত নয়। তথ্য সংগ্রহকারীদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি নিয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীদের বাধা ও অপারগতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বা গড়িমসি করেছেন। তবে পরে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তারা তথ্য দিতে রাজি হয়েছে। জরিপের প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা বলেন, ‘এসব তথ্য তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্যই নেওয়া হচ্ছে। তাই তারা তথ্য দিতে রাজি হয়েছে।’
জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা হবে। এতে পরিবারভিত্তিক তথ্যের পাশাপাশি জীবনমান মূল্যায়নের সূচকও তৈরি করা হবে। এই তথ্যভান্ডার থেকে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা যাবে। জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) বিভাজিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।
"কয়েকটি জায়গায় এ জরিপের তথ্য সংগ্রহে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। পরে তাঁদের বোঝানো গেছে যে এসব তথ্য তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্যই নেওয়া হচ্ছে। তখন তাঁরা তথ্য দিতে রাজি হয়েছেন।"
জরিপের তথ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের একটি বেঞ্চমার্ক ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এই তথ্যভান্ডারটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারহানা সুলতানা (জরিপ পরিচালক), বিবিএস কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ২৮ কোটি টাকা ব্যয়, ২০২৮ সালের ৩০ জুন প্রকল্প মেয়াদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!