📌 বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন ‘জলজ’ থিমে নির্মিত মণ্ডপে নদী, সৃষ্টি ও মাতৃশক্তির অপূর্ব রূপায়ণ দেখিয়েছে। স্থাপত্য ও শিল্পের এক মেলবন্ধনে রূপসী বাংলার নদীজীবনের গল্প ফুটে উঠেছে
ঢাকার বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন ‘জলজ’ থিমে নির্মিত মণ্ডপে নদী, সৃষ্টি ও মাতৃশক্তির অপূর্ব রূপায়ণ দেখিয়েছে। এই মণ্ডপে বাংলার নদীমাতৃক জীবন ও সৃষ্টিতত্ত্বের গল্প ফুটে উঠেছে, যেখানে জলকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও আধ্যাত্মিকতা একত্রিত হয়েছে। শিল্পরসিকদের চোখ কেড়ে নিয়েছে এই নান্দনিক আয়োজন, যা পুরো রাজধানীতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আলোকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘জলজ’ থিমে নির্মিত বনানীর মণ্ডপে নদী, সৃষ্টি ও মাতৃশক্তির সম্মিলিত রূপায়ণ দেখানো হয়েছে
- 📌 ৩৬ ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান (বেত, বাঁশ, চট) দিয়ে নির্মিত মণ্ডপে কৃত্রিম জলপ্রপাত ও প্রতিফলন পুকুরের ব্যবস্থা করা হয়েছে
- 📌 স্থাপত্য ও শিল্পের যৌথ পরিকল্পনায় খ্যাতিমান স্থপতি অমিতি কুন্ডু ও শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহা ‘জলজ’ মণ্ডপের ডিজাইন করেছেন
- 📌 মণ্ডপের কেন্দ্রে পদ্মের আদলে নির্মিত শঙ্খপটে মা দুর্গার প্রতিমা স্থাপিত হয়েছে
- 📌 দর্শনার্থীরা মণ্ডপে জল ও নদী রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বার্তা পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বনানীর এই মণ্ডপে ‘জলজ’ থিমের মাধ্যমে জলের গুরুত্ব ও সৃষ্টির আদি রূপের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সনাতন ধর্মে জলকে পবিত্রতা ও সৃষ্টির সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাতৃগর্ভের জলীয় পরিবেশের সাথে তুলনা করে নদীকে জীবনধারণের শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পৌরাণিক দর্শনে সৃষ্টির পূর্বে সর্বত্র জলরাশি ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যা প্রকৃতির প্রতিটি কণায় জীবনের স্পন্দন বহন করে।
মণ্ডপের স্থাপত্য ও নান্দনিকতা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বেত, বাঁশ ও চটের মতো ৩৬ ধরনের উপাদান দিয়ে ঢেউখেলানো বহুস্তরীয় দৃশ্যপট তৈরি করা হয়েছে। কৃত্রিম জলপ্রপাত ও প্রতিফলন পুকুরের মাধ্যমে জলের গতিশীলতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহা বলেছেন, “আমরা চেয়েছি বাঁশ ও বেতের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে জলের তরঙ্গের রূপ ফুটিয়ে তুলতে, যা দর্শনার্থীদের শুধু সৌন্দর্যই দেখাবে না, বরং ভাবাবে।”
মণ্ডপের কেন্দ্রে পদ্মের আদলে নির্মিত শঙ্খপটে মা দুর্গার প্রতিমা স্থাপিত হয়েছে। এই মণ্ডপে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা মায়ের প্রতিমা ও চারপাশের পরিবেশের আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রিয়তি সাহা বলেছেন, “এই মণ্ডপের মধ্য দিয়ে জল ও নদী রক্ষার বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রতিমার রূপ আর স্থাপত্যশৈলী সত্যি অতুলনীয়।”
"জল আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। আধুনিকতার ভিড়ে আমরা প্রকৃতি ও নদীকে ভুলতে বসেছি। সনাতন ধর্মে ঘট থেকে শুরু করে বিসর্জন-সবকিছুতেই জলের উপস্থিতি রয়েছে। আমরা চেয়েছি বাঁশ, বেত ও চটের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সেই তরঙ্গের রূপ ফুটিয়ে তুলতে, যা দর্শনার্থীদের শুধু সৌন্দর্যই দেখাবে না, বরং ভাবাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্ক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পার্থপ্রতিম সাহা (শিল্পী-গবেষক), অমিতি কুন্ডু (স্থপতি), তানজিম আহমেদ (বেসরকারি চাকরিজীবী), প্রিয়তি সাহা (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান (বেত, বাঁশ, চট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!