📌 বগুড়ায় চালু করা মহিলা বাস সার্ভিসে মাসে ৩ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা কমে বাসের অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় বিআরটিসিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। রুট ও সময়সূচির অসুবিধা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নারীদের আশঙ্কা পেছনে দায়ী
বগুড়ায় মহিলাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা মহিলা বাস সার্ভিসে মাসে ৩ লাখ টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে। চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যাত্রী সংখ্যা কমে বাসের অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় বিআরটিসিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ১৮ আগস্ট এই সার্ভিস উদ্বোধন করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়ায় চালু মহিলা বাসে মাসে ৩ লাখ টাকা লোকসান, যাত্রী সংখ্যা কমে বাসের ৪৫ আসনের অধিকাংশ ফাঁকা
- 📌 শেরপুর ও মোকামতলা রুটে সকাল ৭টা ও দুপুর ১২টার সময়সূচি কর্মজীবী নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয়, অধিকাংশ যাত্রী অটোরিকশা ব্যবহার করছেন
- 📌 বেসরকারি পরিবহনের তুলনায় মহিলা বাসে ভাড়া ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ টাকা করা হলেও যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে না
- 📌 দুটি মহিলা বাস পরিচালনার জন্য মাসে ১.৪ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু আয় হচ্ছে মাত্র ২ হাজার টাকার বেশি
- 📌 বিআরটিসি ম্যানেজার শাহিনুর ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়ানো হয়নি
📰 বিস্তারিত
বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোতে ১৮ আগস্ট মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। পরদিন থেকে দুটি বাস মাটিডালী–শেরপুর এবং বনানী–মোকামতলা রুটে চলাচল শুরু করে। তবে চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না বাস দুটি। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ৪৫ আসনের বাসে অল্পসংখ্যক যাত্রী দেখা যায়।
শেরপুর ও মোকামতলা রুটে পথিমধ্যে কিছু স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীকে বাসে উঠতে দেখা গেলেও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। শেরপুর উপজেলার একটি কলেজে চাকরি করেন শামিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘শুরুতে মহিলা চালক দেখে বাসে উঠতে ভয় লাগত। এখন মাঝেমধ্যে যাতায়াত করি। কিন্তু বাসের সময়সূচি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।’ তাঁর মতে, সকাল ৭টার বাসটি কর্মজীবী নারীদের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক নয়। বগুড়া শহর থেকে শেরপুরে কর্মস্থলে যাওয়া নারীদের অনেককেই সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হতে হয়। ফলে সকাল ৭টায় ডিপো থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটি তাঁদের কাজে আসছে না। অন্যদিকে মোকামতলা রুটের বাসটি দুপুর ১২টায় ছাড়ায় সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফলে এই রুটেও বাসটি অধিকাংশ সময় ফাঁকা যাচ্ছে।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো দুটি বাস গোলাপি রং করে মহিলা বাস সার্ভিস হিসেবে চালানো হচ্ছে। দুটি বাস পরিচালনার জন্য ছয়জন নারী ও একজন পুরুষ কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের প্রতিদিন খাবার ভাতা বাবদ খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এর বাইরে রয়েছে মাসিক বেতন, জ্বালানি ও পুরোনো বাসের মেরামত খরচ। কিন্তু দুটি বাস থেকে প্রতিদিন আয় হচ্ছে দুই হাজার টাকার বেশি না। বগুড়া বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীসেবা দিচ্ছি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিআরটিসি ভাড়া বাড়ায়নি।’ তিনি বলেন, দুটি বাসে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকার ডিজেল লাগে। এর সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন, খাবার ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি বাস পরিচালনায় প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।
বেসরকারি পরিবহনের তুলনায় মহিলা বাসে ভাড়া অনেক কম। বগুড়া থেকে শেরপুরের সাধারণ ভাড়া ৭২ টাকা হলেও মহিলা বাস সার্ভিসে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে এরপরও পাওয়া যায় না যাত্রী। বিআরটিসির এই সেবায় যাত্রী কম হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে রুট ও সময়সূচির বাস্তবতা। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের যাতায়াতের সময় বিবেচনায় না নিয়ে বাস পরিচালনা করায় কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীদের ভাষ্য, বাসের সময়সূচি সুবিধাজনক না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক বা রিকশা ব্যবহার করছেন।
"আমরা অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীসেবা দিচ্ছি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিআরটিসি ভাড়া বাড়ায়নি।" — শাহিনুর ইসলাম, বগুড়া বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া, মাটিডালী, শেরপুর, বনানী, মোকামতলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল করিম বাদশা, শামিমা বেগম, শাহিনুর ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ টাকা (মাসিক লোকসান), ৪৫ আসন, ১৮ আগস্ট (উদ্বোধন), ৬ জন নারী কর্মচারী, ৩০ টাকা (মহিলা বাস ভাড়া), ৭২ টাকা (বেসরকারি ভাড়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!