📌 গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ধাঁধার চরে ২৩৯ একর খাসজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সাননোভা এনার্জি প্রতিষ্ঠানটি আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী ছিলেন। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন প্রকল্পটি পরিবেশ ও কৃষিজমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধাঁধার চরে ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর খাসজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সাননোভা এনার্জি ওপিসি নামের প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। এই আবেদনটি বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা করছেন, যিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং গত নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমি** চেয়ে আবেদন করেছে সাননোভা এনার্জি, যার পরিচালক **কামাল জামান মোল্লা** (বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রার্থী)
- 📌 **১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র** স্থাপনের পরিকল্পনা, নেদারল্যান্ডস ও চীনের সাথে বিনিয়োগ আলোচনা চলছে
- 📌 **৬৩% জমি নাল শ্রেণির** — ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তের আওতা বাইরে থাকা জমি
- 📌 **স্থানীয়রা আশঙ্কা** — প্রকল্পে পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, **২৫-৩০ প্রজাতির পাখি ও জীববৈচিত্র্য** বিপন্ন
- 📌 **জেলা প্রশাসন যাচাই করছে** — আবেদনটি ১৬ আগস্ট করা হয়েছিল, সিদ্ধান্ত এখনো নেই
- 📌 **সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী** (গাজীপুর-৪) ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল চরটিকে **বিশেষ পর্যটন এলাকা** হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে অবস্থিত ধাঁধার চরটি কাপাসিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এই নদীঘেরা চরে রয়েছে কৃষিজমি, গাছপালা, ঝোপঝাড় এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি-প্রাণীর আবাস। স্থানীয়রা চরটিকে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হিসেবে দেখছেন। তবে সাননোভা এনার্জির আবেদনে **১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র** স্থাপনের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নেদারল্যান্ডসের সাথে বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে এবং চীনের সাথে আলোচনা চলছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আবেদিত জমির মধ্যে **নদী শ্রেণির জমি ৩০ দশমিক ৯৫ একর**, **বালুচর ১৩ দশমিক ৫৩ একর**, **সিকস্তি ৪৩ দশমিক ৬ একর** এবং **নাল শ্রেণির জমি ১৫২ দশমিক ৪৪ একর** — মোটের **৬৩ শতাংশ**। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, খাস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত নদী, খাল, নালা ইত্যাদি জমি বন্দোবস্তের আওতা বাইরে রাখা হয়। ফলে ধাঁধার চরের জমির শ্রেণি ও বন্দোবস্তযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে **কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ** ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, চরে **২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও উদ্ভিদ** রয়েছে। তিনি বলেন, চরটিকে **প্রকৃতি ও নদী পর্যবেক্ষণকেন্দ্র** হিসেবে উন্নয়ন করা উচিত। স্থানীয় কৃষক মো. সামছুল আলম দাবি করেন, চরের কিছু পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
সাননোভা এনার্জির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা বলেন, ‘**১০০ মেগাওয়াটের স্বয়ংক্রিয় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র** গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি রিসোর্টের মতো সুবিধাও থাকবে। তবে **নদী বা কৃষিজমি ইজারা** চাইনি, শুধুমাত্র পরিত্যক্ত খাসজমি ইজারা চেয়েছি।’ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. নাহিদুল হক বলেন, **২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমির শ্রেণি নদী, সিকস্তি, নালা, বালুচর ইত্যাদি**। প্রতিষ্ঠানটির আবেদন পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুইয়া বলেন, ‘আবেদনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত এখনো নেই।’
"এই চরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সেখানে রিসোর্ট টাইপের কিছু করারও পরিকল্পনা আছে। এখন সরকার যদি মনে করে দেওয়া যায়, তাহলে দেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধাঁধার চর, কাপাসিয়া উপজেলা, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামাল জামান মোল্লা (বিএনপি নেতা, সাননোভা এনার্জি পরিচালক), মনির হোসেন (বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান), মো. নূরুল করিম ভুইয়া (জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩৯.৫৭ একর (জমি), ১০০ মেগাওয়াট (সৌরবিদ্যুৎ), ৬৩% (নাল শ্রেণির জমি), ১৬ আগস্ট (আবেদন তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!