📌 জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিএনপি নেতা নওশেদ আলী মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের (৮৫) দাফন হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই। দেলোয়ারের পরিবার ও প্রশাসনের সাথে সংঘর্ষে বাধা পেলে সহকারী কমিশনার ফিরে আসেন
জামালপুরের বকশীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) প্রদানের দাবিতে পুলিশের সাথে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা নওশেদ আলীসহ মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিএনপি নেতা নওশেদ আলীসহ মুক্তিযোদ্ধারা দেলোয়ার হোসেনকে "জাল সনদধারী" বলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেন
- 📌 উপজেলা সহকারী কমিশনার আসমা উল হুসনা গার্ড অব অনার নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে ফিরে আসেন
- 📌 দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, হাইকোর্ট ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল
- 📌 দেলোয়ার হোসেন ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সুবিধা পেয়েছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি
- 📌 দেলোয়ার হোসেন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন
📰 বিস্তারিত
বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মাস্টার (৮৫) গত বুধবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দেহাবশেষ বিকেলে নিজ বাড়িতে জানাজার পর মদনেরচর গ্রামে দাফন করা হয়। তবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার আসমা উল হুসনা গার্ড অব অনার নিয়ে মদনেরচর এলাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক নওশেদ আলীসহ মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর পথরোধ করেন।
নওশেদ আলী দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন এবং তাঁর নাম নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দিয়েছি"। অন্যদিকে, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, "আমার বাবা ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। হাইকোর্ট ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না"।
সহকারী কমিশনার আসমা উল হুসনা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দেন। তিনি বলেন, "তাঁদের বাধার মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়"।
"দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দিয়েছি।"
— উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুরের বকশীগঞ্জ, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন, মদনেরচর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেলোয়ার হোসেন মাস্টার (৮৫), নওশেদ আলী, শামীম মিয়া, সহকারী কমিশনার আসমা উল হুসনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!