📌 বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের তিন দিনের মাথায় নাটোরের জেলা প্রশাসক ও দুই ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ ও প্রত্যাহারের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিন দিনেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে
নাটোর জেলায় বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর জেলা প্রশাসক ও দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিএনপি নেতা কর্মীদের বিক্ষোভের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় বিএনপি নেতা কর্মীদের বিক্ষোভ ও ইউএনও কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে
- 📌 ১৭ আগস্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা
- 📌 অভিযোগে লালপুরে ১৮ জন ও বাগাতিপাড়ায় ৭ জন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৬০ থেকে ৭০ ও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়
- 📌 অভিযোগ দাখিলের তিন দিন পরও কোনো থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি
- 📌 অভিযোগ দাখিলের পরদিন অর্থাৎ ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে প্রত্যাহার করা হয়
- 📌 ২০ আগস্ট বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককেও প্রত্যাহার করা হয়
- 📌 একই সময়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়
📰 বিস্তারিত
গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পরদিন ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় লালপুর ও বাগাতিপাড়ার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। লালপুর থানায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৬০ থেকে ৭০ জনকে অভিযুক্ত করেন। অন্যদিকে বাগাতিপাড়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করেন।
তবে অভিযোগ দাখিলের তিন দিন পার হলেও কোনো থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাগাতিপাড়া থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক।
অভিযোগ দাখিলের পরদিন ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে প্রত্যাহার করা হয়। আসমা শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি করি। বদলির আদেশ আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক দেখি না।’
পরদিন ২০ আগস্ট বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককেও প্রত্যাহার করা হয়। একই দিন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নাটোরের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ করার পরপরই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার স্বাভাবিক নয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস হারাতে পারেন।’
‘একটি দলের নেতা কর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করে ফলাফল বাতিলের দাবি জানান। তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অভিযোগ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া স্বাভাবিক নয়।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ করার মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে বলে তাঁরা মনে করেন। এর সঙ্গে কর্মকর্তাদের বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোর জেলা, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসমা শাহীন (জেলা প্রশাসক), বরকত উল্লাহ (লালপুর ইউএনও), দেবাশীষ বসাক (বাগাতিপাড়া ইউএনও), আসাদুজ্জামান (বিএনপি সদস্যসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ১৮ জন, ৭ জন, ৬০ থেকে ৭০ জন, ১৪০ থেকে ১৫০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!