📌 বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ল্যান্ডিং গিয়ার ত্রুটি দেখা দিলে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাত্রা চলাকালীন শিশুসন্তানসহ যাত্রীদের জীবন বিপদে পড়েছিল। কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া ও তার পরিবার এই দুর্ঘটনার শিকার হন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শ্বাসরুদ্ধকর ছিল
১০ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ল্যান্ডিং গিয়ার ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের জীবন বিপদে পড়েছিল। বিমানটি আকাশে উড়ার পরই পেছনের একটি চাকায় সমস্যা দেখা দিলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া ও তার পরিবার এই দুর্ঘটনার শিকার হন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শ্বাসরুদ্ধকর ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্লাইট ৪৩৬ কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাত্রা চলাকালীন ল্যান্ডিং গিয়ার ত্রুটি দেখা দিলে বিমানটি জরুরি অবস্থায় পড়েছিল।
- 📌 ৩৫ মিনিটে উড়ান শুরু হওয়ার পরই বিমানের পেছনের একটি চাকায় সমস্যা দেখা দিলে ঢাকার বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- 📌 ১৯ মাস বয়সী সন্তানসহ কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া ও তার পরিবার এই দুর্ঘটনার শিকার হন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শ্বাসরুদ্ধকর ছিল।
- 📌 জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হলেও বিমানটি ২ ঘণ্টা ধরে আকাশে ভেসে ছিল।
- 📌 ৭৫ জন যাত্রী এই দুর্ঘটনার শিকার হন, তাদের মধ্যে শিশুসহ পরিবারবন্ধুদেরও ছিল।
📰 বিস্তারিত
গতকাল ১০ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দিয়েছিল বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ৪৩৬। বিমানটি আকাশে উড়ার পরই পেছনের একটি চাকায় সমস্যা দেখা দিলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া ও তার পরিবার এই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল তাঁর স্বামী ও ১৯ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়ে ইফরাহ।
বিমানটি আকাশে উড়ার পরই সমস্যা দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ৩০ মিনিট ভালোভাবেই কেটে গেলেও হঠাৎ বিমানটি ওপরের দিকে উঠে যাওয়ার সাথে সাথে শিশুরাও চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। একজন এয়ারহোস্টেস জরুরি মুহূর্তে এক্সিট করতে পারবেন কি না জানতে আসেন। ইসমত আরা প্রিয়া তখনো কিছু বুঝতে পারেননি, কিন্তু তাঁর স্বামী শুভর কথাটি শুনে বুঝতে পারলেন যে কিছু ভয়াবহ ঘটতে চলেছে।
এর কিছুক্ষণ পর ঘোষণা করা হয়, বিমানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা হওয়ায় একটি চাকা নামানো যাচ্ছে না। যাত্রীদের জানানো হয়, তারা সম্ভবত রানওয়েতেই ল্যান্ড করবেন। জরুরি বার্তা দেওয়া হয় যে, যেন সঙ্গে সঙ্গে এক্সিট করি। মুহূর্তেই সবাই থমকে যায়। ইসমত আরা প্রিয়া তাঁর স্বামীকে তাকিয়ে বলেন, আমরা ফিরব তো? শুভ বলেন, ইনশাআল্লাহ।
বিমানটি আকাশে ভেসে ছিল ২ ঘণ্টা। এই সময়ে যাত্রীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ইসমত আরা প্রিয়া জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, তারা স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে অনেক ওপরে। তিনি তাঁর ছোট্ট সন্তান ইফরাহকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরেন এবং শুভকে বলেন, তুমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, ওকে নিয়ে যেন আগে বের হতে পারো। তিনি বুঝতে পারছিলেন, ক্র্যাশ করলে আর কোনো আশাই নেই।
"আমি জানালার পাশে বসেছিলাম। তাই ইফরাহকে শুভর কোলে দিয়ে বললাম, তুমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, ওকে নিয়ে যেন আগে বের হতে পারো। বুঝতে পারছিলাম, ক্র্যাশ করলে আর কোনো আশাই নেই।"
ইসমত আরা প্রিয়া বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে স্মরণীয় করে রাখবে। তিনি মনে করেন, তাদের মতো একটা ছোট্ট পরিবারও তো সেদিন সেই দুর্ঘটনায় ছিল। তাদের কোলেও শিশু ছিল। তিনি বলেন, আমাদের ইফরাহ এই পৃথিবীর কিছুই বোঝে না। এখনো কত কিছু দেখা তার বাকি! এই পৃথিবীতে হয়তো আর কিছুক্ষণ আছি, এরপর সব শেষ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার → ঢাকা (হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া, স্বামী শুভ, ১৯ মাস বয়সী সন্তান ইফরাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ফ্লাইট ৪৩৬, ৩০ মিনিট, ২ ঘণ্টা, ৭৫ জন যাত্রী, ১৯ মাস বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!