📌 বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য সরকারি বাজেট থেকে নয়, কোম্পানির নিজস্ব আয় ও অর্থায়ন থেকে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মন্ত্রী বলেন, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ডেলিভারি পাওয়ার ২৫টি বোয়িংয়ের মধ্যে ১৫টি ওয়াইডবডি ও ১০টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজের জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য সরকারি বাজেট থেকে সরাসরি পরিশোধ করা হবে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের বাজেট পরিশোধ হবে বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব আয় থেকে** — সরাসরি সরকারি বাজেটে চাপ পড়বে না বলে জানান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
- 📌 **৩০ এপ্রিল ও ২৩ সেপ্টেম্বর দু’টি চুক্তির মাধ্যমে ২৫টি বোয়িং কেনা হয়েছে** — এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইডবডি (দুটি ৭৮৭-৯ ও ১৩টি ৭৮৭-১০) এবং ১০টি ন্যারোবডি (৭৩৭-৮ ম্যাক্স)।
- 📌 **২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ডেলিভারি পাওয়ার পরিকল্পনা** — তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়ার জন্য বোয়িংকে অনুরোধ করা হয়েছে।
- 📌 **এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের আলোচনা চলছে** — এর মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি ও ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি।
- 📌 **ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণে বহর সম্প্রসারণ** — বর্তমানে বাংলাদেশের বহরে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে ইথিওপিয়ার বহরে ১৬৭টি।
- 📌 **বিমান বাংলাদেশের বর্তমান বহর ২০% যাত্রী চাহিদা মেটায়** — বাকি অংশ বিদেশি এয়ারলাইনস পরিচালনা করে।
📰 বিস্তারিত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। এর ‘রাইট টু পারচেজ অ্যাডিশনাল এয়ারক্রাফট’ আওতায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়। নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি। মন্ত্রী বলেন, ৩০ এপ্রিলের চুক্তির একই দরে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণের সময় যাত্রী চাহিদা, বিমানের নেটওয়ার্ক, উড়োজাহাজের রেঞ্জ ও আসনসংখ্যা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকোয়েন্সি বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ রুটে এবং ন্যারোবডি আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজগুলোর প্রতিস্থাপনেও ন্যারোবডি ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “বিমান বাংলাদেশ একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনা করে এই ক্রয়পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি বাজেটের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে না।”
"বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করা হবে। ডেলিভারি পর্যায়ক্রমে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও পর্যায়ক্রমে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (প্রেস ব্রিফিং: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (বিমানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য
- ১৫টি ওয়াইডবডি (২টি ৭৮৭-৯ ও ১৩টি ৭৮৭-১০)
- ১০টি ন্যারোবডি (৭৩৭-৮ ম্যাক্স)
- ২০৩১-২০৩৫ সালের মধ্যে ডেলিভারি পরিকল্পনা
- বিমান বাংলাদেশের বর্তমান বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!