📌 বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেডের দুই ইনচার্জকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে শেডের দু’জন কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি তদন্তের ভিত্তিতে ক্লোজ করা হলেও, প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশ্ন উঠছে
বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেডের দুই ইনচার্জকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ‘ক্লোজ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে শেডের দু’জন কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি তদন্তের ভিত্তিতে ক্লোজ করা হলেও, প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ নম্বর শেডের দুই ইনচার্জকে ‘ক্লোজ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
- 📌 ৫ সেপ্টেম্বর আসা ৪৫৫ প্যাকেজের চালানটি বৈধভাবে খালাস করা হয়েছিল, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যে ৮ সেপ্টেম্বর আসা ৪৪৪ প্যাকেজের চালানটিকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বের করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
- 📌 সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে দু’জন ইনচার্জকে ক্লোজ করা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
- 📌 কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, শুধু জন প্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর মেসার্স সাদীয়া এন্টারপ্রাইজের আমদানিকৃত ৪৫৫ প্যাকেজ সিন্থেটিক ফেব্রিক্স বন্দরে আসে। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে চালানটি বৈধভাবে খালাস করা হয়। পণ্যটির খালাস মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং বন্দর মাশুল বাবদও অর্থ পরিশোধ করা হয়।
অন্যদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর একই শেডে ‘সানজিদা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের আমদানিকারকের ৪৪৪ প্যাকেজ, যার ওজন ২২ হাজার ৪ কেজি, সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের একটি চালান আসে। এই চালানের ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৮১১ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। দুটি চালান একই শেডে কাছাকাছি সময়ে আসায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, ৮ সেপ্টেম্বরের ৪৪৪ প্যাকেজের ভারতীয় পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তিনটি ট্রাকে করে রাতের আঁধারে বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, বন্দর থেকে বের হওয়া তিনটি ট্রাকে ছিল ৫ সেপ্টেম্বর আসা ৪৫৫ প্যাকেজের চালান, যেটি বৈধভাবে খালাস করা হয়েছিল।
শেডের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস জানান, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের আগেই শেডের দুই ইনচার্জকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় মামলা করা হবে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরও কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের শুধু জন প্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, একটি চালান নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দুই শেড ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কতটা যৌক্তিক। তারা বলছেন, প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব ও নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
"ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের আগেই শেডের দুই ইনচার্জকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে।"
"সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় মামলা করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেনাপোল বন্দর, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেড ইনচার্জ (২ জন), উপপরিচালক রুহুল আমিন, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস, কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ও সহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ নম্বর শেড, ৪৪৪ প্যাকেজ, ৪৫৫ প্যাকেজ, ৫ সেপ্টেম্বর, ৮ সেপ্টেম্বর, ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!