📌 ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৫ জনের মধ্যে লালমনিরহাটের শামীম আল মাহাদী অন্যায্যভাবে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত প্রার্থীরা রাজপথে নেমে ‘আত্মাহুতি’ দেবার হুমকি দিয়েছেন। সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলেছেন তারা।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রামের স্বাবলম্বী নারী আলেয়া বেগমের মেজ ছেলে শামীম আল মাহাদী ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১১ মাসের অপেক্ষার পর ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে ১ হাজার ৮০৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনের চাকরি নিশ্চিত হলেও ১০৫ জনের মধ্যে শামীম আল মাহাদী অন্যতম। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আলেয়া বেগমের কণ্ঠস্বর উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৫ জনের মধ্যে লালমনিরহাটের শামীম আল মাহাদী অন্যায্যভাবে বাদ পড়েছেন।
- 📌 ১১ মাসের অপেক্ষার পর ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে ১০৫ জনের নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 বঞ্চিত প্রার্থীরা ঢাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’ দেবার হুমকি দিয়েছেন।
- 📌 বঞ্চিত প্রার্থীরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ এবং বাদ পড়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো।
- 📌 আলেয়া বেগম বলেছেন, ‘সরকারের বাহাদুররা আমাদের এলাকায় সরেজমিন যাচাই করুক। আমার ছেলের কোনো অপরাধ নেই।’
📰 বিস্তারিত
৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৫ জনের মধ্যে অন্যতম শামীম আল মাহাদী লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি নিজস্ব গরুর খামার গড়ে তোলেন। এক বছর আগে যখন তার নাম ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তিনি এবং তার মা আলেয়া বেগম গর্বিত ছিলেন। কিন্তু ১১ মাসের অপেক্ষার পর ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে তার নাম না দেখে তারা অবাক ও ব্যথিত হন।
আলেয়া বেগম বলেন, ‘সরকারের বাহাদুররা যদি আমাদের এলাকায় সরেজমিন যাচাই করে, তবে আমার ছেলের কোনো অপরাধ নেই। আমি তার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছেও খোঁজ নিতে চাই। সবখানে যদি সে নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে কেন আমার ছেলে অন্যায্যভাবে বঞ্চিত হচ্ছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ ছাড়াই কেউ কেন বঞ্চিত করা হবে?’
বঞ্চিত প্রার্থীরা ঢাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা অনতিবিলম্বে সম্পূরক গেজেট প্রকাশের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, ৪৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত নূরে আলম বলেন, ‘আমি আনসার ক্যাডারে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত আছি। কিন্তু ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পেলেও এবার আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে সেই ব্যাখ্যা চাই।’
মনিরুজ্জামান মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর পরিশ্রম করে বিসিএসে উত্তীর্ণ হলাম। কোনো অপরাধ না করেও কেন এই শাস্তি পেতে হবে? আমরা নিজেদের মেধা দিয়ে অর্জিত চাকরিটি ফেরত চাই।’
বঞ্চিত প্রার্থীরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পুনঃপ্রজ্ঞাপনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা, আইনগত বাধা না থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ, বাদ পড়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
"আমি ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বর্তমানে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত আছি। কিন্তু ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নতুন করে সুপারিশ পেলেও এবার আমাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগের চাকরির ক্ষেত্রে ছাড়পত্র পেলেও এবার কীভাবে বাদ পড়লাম, সরকারের কাছে সেই ব্যাখ্যা চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রাম, ঢাকা (রাজু ভাস্কর্য ও শাহবাগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেয়া বেগম, শামীম আল মাহাদী, নূরে আলম, মনিরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫তম বিসিএস, ১০৫ জন বাদ পড়া, ১১ মাস অপেক্ষা, ১৪ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ, ১ হাজার ৮০৭ সুপারিশপ্রাপ্ত, ১ হাজার ৭০২ চাকরি নিশ্চিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!