📌 ১৮৫৪ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ডাকটিকিট চালু হয়। ব্রিটিশ আমলে ডাকব্যবস্থার আধুনিকায়নে লর্ড ডালহৌসির নেতৃত্বে প্রবর্তিত আঠালো ডাকটিকিটের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর খরচ ও জটিলতা কমে যায়
১৮৫৪ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ডাকটিকিটের ব্যবহার শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে ডাকব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঘটে। ডাকটিকিটের প্রচলন শুরু হয় যুক্তরাজ্যে ১৮৪০ সালে, কিন্তু বাংলাদেশে এর পথপ্রদর্শক হয় লর্ড ডালহৌসির নেতৃত্বে গঠিত ‘পোস্ট অফিস কমিশন’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮৫৪ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রথম ডাকটিকিট চালু হয়, যা ছিল ব্রিটিশ ভারতের আধুনিক ডাকব্যবস্থার অংশ
- 📌 ১৮৪০ সালে যুক্তরাজ্যে ডাকটিকিটের প্রচলন শুরু হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫৪ সালে
- 📌 লর্ড ডালহৌসি ‘পোস্ট অফিস কমিশন’ গঠন করে এবং চারটি মূল সুপারিশ করেন: অভিন্ন ডাকমাশুল, আঠালো ডাকটিকিট প্রবর্তন, একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিনামূল্যে ডাক সুবিধা বাতিল
- 📌 ১৮৫২ সালের ১ জুলাই সিন্ধু প্রদেশে ‘সিন্ধু ডাক’ নামে আধা আনা মূল্যের প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়, যা এশিয়ার প্রথম ডাকটিকিট
- 📌 কলকাতার টাঁকশালে ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় কর্নেল ফোর্বস, কিন্তু তিনি রানির প্রতিকৃতি যুক্ত করার পক্ষে ছিলেন
- 📌 ডেপুটি সার্ভেয়ার জেনারেল ক্যাপ্টেন হেনরি এডওয়ার্ড থুইলিয়ার ১৮৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আধা আনা মূল্যের প্রথম ডাকটিকিট ছাপান
- 📌 ডাকটিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ওজনের ভিত্তিতে: আধা আনা (১/৪ তোলা পর্যন্ত), এক আনা (১/৪ থেকে ১ তোলা), দুই আনা (১ থেকে ২ তোলা), চার আনা (২ থেকে ৪ তোলা)
📰 বিস্তারিত
১৮৫৪ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ডাকটিকিটের ব্যবহার শুরু হয়। এই ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে ডাকব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঘটে। ডাকটিকিটের প্রচলন শুরু হয় যুক্তরাজ্যে ১৮৪০ সালে, কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫৪ সালে। ব্রিটিশ ভারতের ডাকব্যবস্থা তখন বেশ বিশৃঙ্খল ছিল। অঞ্চলভেদে লোকাল ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর বা সামরিক কর্মকর্তারা নিজস্ব নিয়মে পোস্ট অফিস পরিচালনা করতেন। চিঠির ওজন ও দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে ডাকমাশুল হিসাব করা হতো, যা ছিল অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষ ডাকমাশুলের হিসাব বুঝত না বললেই চলে।
১৮৫০ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি ‘পোস্ট অফিস কমিশন’ গঠন করেন। কমিশন প্রধানত চারটি সুপারিশ করে: অভিন্ন ডাকমাশুল নির্ধারণ, আঠালো ডাকটিকিট প্রবর্তন, একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিনামূল্যে ডাক সুবিধা বাতিল। এরই মধ্যে ১৮৫২ সালের ১ জুলাই সিন্ধু প্রদেশের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসক স্যার বার্টেল ফ্রেরের উদ্যোগে ‘সিন্ধু ডাক’ নামে আধা আনা মূল্যের একটি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এটি এশিয়ার প্রথম ডাকটিকিট হলেও এর ব্যবহার কেবল সিন্ধু প্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল।
লর্ড ডালহৌসি যুক্তরাজ্য থেকে ডাকটিকিট নকশা ও মুদ্রণ করানোর বিপক্ষে ছিলেন, কারণ এতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি কলকাতার টাঁকশালের সুপারিনটেনডেন্ট কর্নেল ফোর্বসকে ডাকটিকিট তৈরির দায়িত্ব দেন। কর্নেল ফোর্বস একটি নকশা প্রস্তুত করেন, যেখানে ব্রিটিশরাজের প্রতিনিধিত্ব করা একটা সিংহের ছবি ছিল ও পেছনে একটা পামগাছ ছিল। তবে লর্ড ডালহৌসি এই নকশা পছন্দ করেননি এবং রানির প্রতিকৃতি যুক্ত করার পক্ষে মত দেন।
ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় ডেপুটি সার্ভেয়ার জেনারেল ক্যাপ্টেন হেনরি এডওয়ার্ড থুইলিয়ার। তিনি রানির প্রতিকৃতি দিয়ে খসড়া নকশা তৈরি করেন। ১৮৫৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তা অনুমোদিত হয়। সার্ভে অফিসে সংরক্ষিত জলছাপযুক্ত ‘উভ পেপারে’ সিঁদুর লাল রঙে আধা আনা মূল্যের প্রথম ডাকটিকিট ছাপা হয়। ডাকটিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ওজনের ভিত্তিতে: আধা আনা (১/৪ তোলা পর্যন্ত ওজনের চিঠির জন্য), এক আনা (১/৪ তোলার বেশি কিন্তু ১ তোলার কম ওজনের জন্য), দুই আনা (১ তোলার বেশি কিন্তু ২ তোলার কম ওজনের জন্য) এবং চার আনা (২ তোলার বেশি কিন্তু ৪ তোলার কম ওজনের জন্য)।
"ডাকব্যবস্থার আধুনিকায়নে লর্ড ডালহৌসির নেতৃত্বে প্রবর্তিত আঠালো ডাকটিকিটের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর খরচ ও জটিলতা কমে যায়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা (বর্তমান ভারত), সিন্ধু প্রদেশ (বর্তমান পাকিস্তান), বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লর্ড ডালহৌসি, কর্নেল ফোর্বস, স্যার বার্টেল ফ্রের, ক্যাপ্টেন হেনরি এডওয়ার্ড থুইলিয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৫৪ (বছর), ১ অক্টোবর (তারিখ), ১৮৫২ (বছর), ১ জুলাই (তারিখ), ১০ (বছরে ডাকটিকিট চালু হওয়া দেশের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!