📌 বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে, বিশেষত বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে প্রথমে নিম্নচাপ, পরে গভীর নিম্নচাপ এবং শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তর: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে বিডব্লিউওটি পূর্বাভাস দিয়েছে।
- 📌 বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা: ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে।
- 📌 বিশেষভাবে প্রভাবিত বিভাগ: বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
- 📌 চট্টগ্রাম ও সিলেটে কম বৃষ্টি: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হলেও তা তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- 📌 মাছ ধরার নৌকা সতর্ক থাকতে হবে: বিডব্লিউওটি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা নেই: আপাতত বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি শনিবার সকালে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে প্রথমে নিম্নচাপ, পরে গভীর নিম্নচাপ এবং শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপে, ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লঘুচাপের কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সময় তা ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।
সিস্টেমটির সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী, এটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিমমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, সিস্টেমটি পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে এটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ শক্তি কতটা হবে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কসংকেত জারি করেনি। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সতর্কসংকেত জারি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার এবং উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূল (বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা বিভাগ), ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ ঘণ্টা, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর, ৬-১২ ঘণ্টা, ২৪-৩৬ ঘণ্টা, ১০০ কিলোমিটার, ৩৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা, ৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!