📅 ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

দেশের তাঁতশিল্পের অস্তিত্ব সংকট: কাঁচামালের দাম ও বিদ্যুৎ সংকটে লোকসান হচ্ছে ১৫ লাখেরও বেশি কর্মী

দেশের তাঁতশিল্পের অস্তিত্ব সংকট: কাঁচামালের দাম ও বিদ্যুৎ সংকটে লোকসান হচ্ছে ১৫ লাখেরও বেশি কর্মী

📷 ছবি: দৈনিক বাংলাদেশ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Daily Bangladesh ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 দেশের তাঁতশিল্পে ত্রিমুখী চাপে ১৫ লাখেরও বেশি কর্মী সংকটে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও আমদানিনির্ভর পণ্যের চাপে ছোট তাঁতিরা পেশা বদল করছেন। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ প্রধান তাঁত-অধ্যুষিত এলাকায় উৎপাদন ৫০% কমেছে

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের অস্তিত্বের লড়াই ত্রিমুখী চাপে চরম সংকটে পড়েছে। সারা দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই শিল্পে, কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের চাপে ছোট ও প্রান্তিক তাঁতিরা পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রধান তাঁত-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং অনেক তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 **১৫ লাখেরও বেশি কর্মী** সংকটে: কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও আমদানিনির্ভর পণ্যের চাপে তাঁতশিল্পের অস্তিত্ব বিপন্ন
  • 📌 **সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর-বেলকুচি** এলাকায় একসময় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা ছিল তাঁতশিল্পে, কিন্তু উৎপাদন ৫০% কমে গেছে
  • 📌 **সুতার দাম ২২ হাজার টাকায়** পৌঁছেছে: এক ডোপ সুতার দাম গত বছরের ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২২ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে
  • 📌 **লুঙ্গির বিক্রয়মূল্য কমে ১৮০-২০০ টাকা**: রমজানে ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ১৮০-২০০ টাকায় নামিয়ে আনতে হচ্ছে
  • 📌 **লোডশেডিং ও জ্বালানি ব্যয়** ছোট তাঁতিরা টিকতে পারছেন না: ডিজেল জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, ফলে খরচ চারগুণ বেড়েছে
  • 📌 **শাহজাদপুরে ১ লাখ ১২ হাজার শ্রমিক** কাজ হারিয়েছেন: বাজারের বেচাকেনা ৭০% কমেছে
  • 📌 **টাঙ্গাইলের বল্লায় ৫০ হাজার থেকে কমে ৩-৪ হাজার** তাঁতি বাকি: ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে তাঁত বিক্রি করে রিকশা চালাচ্ছেন
  • 📌 **পাওয়ারলুমের দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি**: আগে ২৬-২৮ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৩০ হাজার টাকার বেশি

📰 বিস্তারিত

বাংলাদেশের প্রধান তাঁত-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে যেমন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর-বেলকুচি, পাবনার দোগাছী, টাঙ্গাইলের পাথরাইল-বল্লা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একসময় তাঁতকলগুলো ব্যস্ত থাকত। কিন্তু বর্তমানে এই শিল্পের অস্তিত্বের লড়াই ত্রিমুখী চাপে চরম সংকটে পড়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, রঙ ও রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধি, ঘনঘন লোডশেডিং এবং আমদানিনির্ভর পাওয়ারলুমের চাপ সব মিলিয়ে ছোট ও প্রান্তিক তাঁতিরা পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার তাঁত মালিক আলমাস হোসেন বলেন, গত বছর এক ডোপ সুতার দাম ছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু এখন সেটা ২২ হাজার টাকার কাছাকাছি উঠে গেছে। তিনি জানান, লুঙ্গির বিক্রয়মূল্য কমেছে। রমজানে যে লুঙ্গি ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটা ১৮০-২০০ টাকায় নামিয়ে আনতে হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন করতে হয়, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ছোট তাঁতিরা আর টিকতে পারছেন না।

তাঁত মালিক আব্দুস সাহিদও লোডশেডিং ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন অর্ধেক হয়ে গেছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় খরচ চারগুণ বেড়েছে, কিন্তু পণ্যের দাম বাড়ছে না। ছোট তাঁতিরা টিকতে পারছেন না। অনেক কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সুতা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ভারতীয় সুতা আসা কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাঁতিরা খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে কাঁচামাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

শাহজাদপুরের তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মাহমুদ দাবি করেন, গত এক বছরে শুধু শাহজাদপুরেই প্রায় এক লাখ ১২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। একই সময়ে বাজারের বেচাকেনা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। টাঙ্গাইলের বল্লা ইউনিয়নের ৬০ বছর বয়সী তাঁতি মোহাম্মদ আমীর হোসেন প্রায় ৪০ বছর ধরে হাতের তাঁতে শাড়ি বুনছেন। তিনি বলেন, একসময় বল্লায় প্রায় ৫০ হাজার তাঁতি ছিলেন, কিন্তু এখন তিন-চার হাজারের বেশি নেই। তিনি জানান, অনেক তাঁতি ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে তাঁত বিক্রি করে রিকশা চালাচ্ছেন বা শহরে গিয়ে দিনমজুরি করছেন।

টাঙ্গাইলের পাথরাইলের প্রবীণ তাঁতি বিশ্বনাথ বসাক বলেন, ১০০ কাউন্টের সুতা বান্ডেলের দাম দুই বছরে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে পড়ে আমরা আরও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হই। সরকারি সহযোগিতা না পেলে এই শিল্প টিকবে না। আমাদের সন্তানদের আর এই পেশায় আগ্রহ নেই। পাবনার দোগাছী কুলুনিয়া গ্রামের পাওয়ারলুম মালিক মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ৮০ কাউন্ট সুতা আগে ২৬-২৮ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৩০ হাজার টাকার বেশি। লুঙ্গিতে লাভ কমে গেছে ১০-১৫ টাকায়। দশটি তাঁতের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

"এই শিল্পের অস্তিত্বের লড়াই ত্রিমুখী চাপে চরম সংকটে পড়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। বিশেষ করে মৌসুমি চাহিদার সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ (শাহজাদপুর, বেলকুচি, এনায়েতপুর), পাবনা (দোগাছী), টাঙ্গাইল (পাথরাইল, বল্লা), নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার)
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলমাস হোসেন, আব্দুস সাহিদ, মো. শাকিল আহমেদ, মো. আল মাহমুদ, মোহাম্মদ আমীর হোসেন, বিশ্বনাথ বসাক, মো. আব্দুস সাত্তার
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ লাখ (কর্মী), ১০ লাখ (শাহজাদপুরের কর্মী), ১ লাখ ১২ হাজার (কাজহারানো শ্রমিক), ৫০% (উৎপাদন কমে গেছে), ২২ হাজার (সুতার দাম), ১৮০-২০০ টাকা (লুঙ্গির বিক্রয়মূল্য), ৭০% (বাজারের বেচাকেনা কমে গেছে)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖