📌 বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জলবায়ু সভায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ১২-১৮% উপকূলীয় এলাকা পানিতে ডুবে যেতে পারে এবং ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের বাইরে সহায়তা প্রয়োজন
বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে এককভাবে দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সতর্কবার্তা
- 📌 বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম, কিন্তু দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, খাদ্যনিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে
- 📌 এ বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে নদী ও খাল খননের কাজ চলছে
- 📌 ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে
- 📌 পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী: গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো, অভিযোজন খাতে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের বাস্তবায়ন
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বিশ্বের মোটের মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম, কিন্তু দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির ১ শতাংশের সমপরিমাণ। এছাড়াও খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের জন্য প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে।
"অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা' এই নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জলবায়ু সভা), বাংলাদেশ (উপকূলীয় এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০.৫% (গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ), ১২-১৮% (উপকূলীয় এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে), ১% (জিডিপির ক্ষয়ক্ষতি), ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার (বাজেট বরাদ্দ), ২৫ কোটি (গাছ লাগানোর পরিকল্পনা), ২০ হাজার কিলোমিটার (নদী ও খাল খনন), ২০% (নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!