📌 নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের পর বাংলাদেশে ভূমিকম্প ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত বছর নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই বছর ফেব্রুয়ারিতে ১২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে চলা এবং জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসের পর বাংলাদেশে ভূমিকম্প ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর নরসিংদীর কাছে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে ১২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসব দুর্যোগের পর বাংলাদেশের ভবন ও অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা বাড়ছে। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণের সাথে সাথে ভূমিকম্পসহনশীলতা ও দুর্যোগের সময় নিরাপদ নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত বছর নরসিংদীর কাছে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই বছর ফেব্রুয়ারিতে ২৭ দিনে ১২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে
- 📌 বিশেষজ্ঞ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও ফাউন্ডেশন ডিজাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- 📌 জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে চলা এবং নির্মাণের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলগত তদারকি প্রয়োজন
- 📌 বন্যা-প্রবণ এলাকায় ভবন নির্মাণে ভিত্তির উচ্চতা, পানি নিষ্কাশন ও অবকাঠামো ব্যবস্থা বিবেচনা করা দরকার
- 📌 জরুরি নির্গমনপথ, নিরাপদ সিঁড়ি ও লিফটের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে বহুতল ভবন ও আবাসিক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এসব ভবন নির্মাণে জমির অবস্থান, নকশা, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবনের নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন। নির্মাণের শুরু থেকেই যথাযথ জিওটেকনিক্যাল ইনভেস্টিগেশন বা সয়েল টেস্ট করে মাটির বৈশিষ্ট্য ও বিয়ারিং ক্যাপাসিটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের প্রধান স্থপতি মো. আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেছেন, ভবনের ফ্লোর এরিয়া, উচ্চতা ও ব্যবহার অনুযায়ী স্ট্রাকচারাল লোড হিসাবের পাশাপাশি উইন্ড প্রেশার ও ভূমিকম্পের মতো ল্যাটারাল লোড বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত স্ট্রাকচারাল সিস্টেম নির্বাচন ও ডিজাইন করা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা অপরিহার্য। অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবনের তলা বা আয়তন বাড়ানো বা নির্মাণসামগ্রীর মান কমিয়ে দেওয়া ভবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
দুর্যোগের সময় নির্গমনব্যবস্থা ভবন শক্তিশালী হলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে ভবন থেকে বের হবেন, সেটিও নির্মাণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সিঁড়ি, জরুরি নির্গমনপথ এবং বাধামুক্ত চলাচলের জায়গা থাকা প্রয়োজন। বহুতল ভবনে জরুরি সময়ে বের হওয়ার জন্য লিফটকে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাই নিরাপদ সিঁড়ি ও বিকল্প নির্গমনব্যবস্থা থাকা জরুরি।
বন্যা-প্রবণ এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু কাঠামো নয়, ভবনের ভিত্তির উচ্চতা, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা বিবেচনা করা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্যোগের সময় শুধু ভবন নিরাপদ থাকলেই হবে না, জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল যেন সেখানে পৌঁছাতে পারে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
"কোনো প্রকল্প কেনার আগে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপত্য নকশা, কাঠামোগত নকশা, এমইপি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডেভেলপার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, নির্মাণের মান এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরের রেকর্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিশেষত নরসিংদী ও নগর এলাকা), নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবুল কালাম আজাদ (প্রধান স্থপতি, নিরাপত্তা জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫.৭ (ভূমিকম্পের মাত্রা), ১২ (ফেব্রুয়ারিতে অনুভূত ভূমিকম্পের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!