📌 ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে ৬৫ বছরের বেশি জনসংখ্যা ১ কোটি পৌঁছেছে, যা ২০২৬ সালে ১ কোটি ২১ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি প্রবীণ জনগোষ্ঠীসম্পন্ন দেশের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করবে। সরকার বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে
১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর ৮ম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে বয়স্ক জনসংখ্যা ২০২২ সালের ১ কোটি থেকে ২০২৬ সালে ১ কোটি ২১ লক্ষে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছাবে। এছাড়াও, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৪ কোটিতে উন্নীত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ২০২৭ সালে প্রবীণ জনগোষ্ঠীসম্পন্ন সমাজে এবং ২০৫০ সালে পূর্ণবয়স্ক সমাজে পরিণত হবে, কারণ জন্মহার হ্রাস ও জীবনকাল বৃদ্ধির কারণে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে।
- 📌 ২০০১ সালে ৭০ লক্ষ ৭৩ হাজার থেকে ২০২২ সালে ষাটের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি ৫৩ লক্ষাধিক হয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি জনসংখ্যা ২০১১ সালের ৬৮ লক্ষ ৬৫ হাজার থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ১ কোটি পৌঁছেছে।
- 📌 গবেষণা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি প্রবীণ জনগোষ্ঠীসম্পন্ন দেশের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করবে।
- 📌 বর্তমান সরকারের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬২ লক্ষে নিয়ে ১ লক্ষ বৃদ্ধি এবং ভাতার হার ৭০০ টাকায় নিয়ে ৫০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু এই প্রস্তাবের পেছনে প্রবীণ জনমিতির সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশের সংবিধান ১৫ (ঘ) অনুচ্ছেদে এবং জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩-এ সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো জন্মহার হ্রাস এবং জীবনকাল বৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় নারীদের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি। গড় জীবনকাল বর্তমানে ৭৫ বছর, যেখানে নারীদের গড় জীবনকাল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন বছর বেশি। ফলে ভবিষ্যতে বয়স্ক নারীদের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি থাকবে।
গবেষণা প্রতিবেদন ‘এশিয়া এইজিং- ডেমোগ্রাফিক, ইকোনোমিক এন্ড হেলথ ট্রাঞ্জিশন’ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি প্রবীণ জনগোষ্ঠীসম্পন্ন দেশের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করবে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, বয়স্ক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী অব্যহত রাখার কথা বলেছে।
জাতিসংঘের সুস্থ বার্ধক্যের দশকের (২০২১–২০৩০) প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক সমাজ গঠনের প্রয়োজন। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩-এর ১২ অনুচ্ছেদে প্রবীণদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এসব বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় পরও প্রশ্ন রয়েছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি পাস হওয়া দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে বাবা-মা ও প্রবীণদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক কাজের প্রয়োজন রয়েছে।
"আমাদের গবেষনায় দেখা গেছে যে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয় তা যথাযথ বা পর্যাপ্ত নয়। সরকার ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করছে—পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীও অব্যহত থাকার কথা বলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষকরা (আমি ও আমার আন্তর্জাতিক সহ-গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ২১ লক্ষ (২০২৬ সালের প্রবীণ জনসংখ্যা), ২ কোটি (২০৪০ সালের প্রাক্কলিত প্রবীণ জনসংখ্যা), ৭০০ টাকা (বয়স্ক ভাতা হার), ৬২ লক্ষ (বয়স্ক ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!