📌 দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। করোনা মহামারির পর প্রথমবারের মতো জেলার হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আবাসন সংকটের আশঙ্কা রয়েছে
দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির সংমিশ্রণে বান্দরবান জেলায় পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাসের মহামারির পর প্রথমবারের মতো জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলিতে শতভাগ বুকিং হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পর্যটন মালিকদের মতে, এই ছুটির সময়ে পর্যটকদের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বান্দরবানে করোনা-পূর্বের চেয়ে সর্বোচ্চ ১৩-১৪ হাজার পর্যটক ভিড় করেছে।
- 📌 জেলা শহর ও উপজেলার ২৫০টি হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং হয়েছে।
- 📌 মেঘলা ও নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে সকাল থেকে পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা।
- 📌 চাঁদের গাড়ির স্টেশনে গাড়ি পেতে দীর্ঘ সারি, ৪০০টি গাড়ি দেবতাখুম ও নীলগিরি দিকে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে।
- 📌 ৪৫ জনের একটি দল ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে পাহাড় ও সমুদ্র ঘুরতে এসেছে।
- 📌 গাজীপুরের রিফাত হোসেনের দল নীলাচল, মেঘলা ও শৈলপ্রপাত ঘুরে রাতে ফিরবে।
- 📌 রংপুরের ১৪ জনের দল বগালেক ও কেওক্রাডং দেখতে এসেছে।
- 📌 ২৫ ও ২৬ অক্টোবর পর্যটকের চাপ কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু ২৭ অক্টোবর থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত আবারও পূর্ণ বুকিং থাকবে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সকাল থেকে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। জেলা শহরের মেঘলা ও নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র এবং চাঁদের গাড়ির স্টেশনে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে আছে। সাধারণত বিকেলে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে, কিন্তু এবার সকাল থেকেই পর্যটকরা সেখানে উপস্থিত। চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন জানান, আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি দেবতাখুম, নীলগিরি, চিম্বুক, রুমা ও থানচির দিকে গেছে। তাঁদের কাছে প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে। তবে হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং থাকায় গাড়ি দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক শোয়েব বলেন, আজ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের মোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। হোটেল দি মোরের ব্যবস্থাপক জুবায়ের জানান, মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত হোটেলের সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। তবে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর পর্যটকের চাপ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু ২৭ অক্টোবর থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত আবারও হোটেলের সব কক্ষ পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারির পর প্রথমবারের মতো জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলার সব হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং হয়েছে। ফলে অনেক পর্যটককে আবাসন দেওয়া সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর গোপা বিশ্বাস জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার পরপরই বৌদ্ধদের প্রবারণা উৎসব থাকায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির পর ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মাসের শেষ পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
"আজ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। প্রতিদিন কক্ষের জন্য পর্যটকেরা যোগাযোগ করছেন, কিন্তু কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"
"হোটেল–মোটেলে শতভাগ কক্ষ বুকিং থাকায় আজ আসা পর্যটকদের সবাইকে গাড়ি দেওয়া সম্ভব না–ও হতে পারে। আগামীকালও গাড়ির সংকট থাকতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান জেলা শহর, মেঘলা, নীলাচল, চাঁদের গাড়ি স্টেশন, দেবতাখুম, নীলগিরি, চিম্বুক, রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলাউদ্দিন (ঢাকার বাসিন্দা), রিফাত হোসেন (গাজীপুর), কামাল উদ্দিন (লাইনম্যান), শোয়েব (মোটেল ব্যবস্থাপক), জুবায়ের (হোটেল ব্যবস্থাপক), জসীম উদ্দিন (মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক), গোপা বিশ্বাস (ডেপুটি কালেক্টর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩-১৪ হাজার (পর্যটক), ২৫০টি (হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট), ৪৫ জন (পর্যটক দল), ১৪ জন (পর্যটক দল), ৪০০টি (গাড়ি), ৪২০টি (চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!