📌 বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই বছরের এক শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ঢাকায় পালিয়ে যান তার মা। দাদিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান। ইউএনও নিজেই শিশুর দায়িত্ব নিয়ে তার নিরাপত্তা ও যত্নের ব্যবস্থা করেন
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় দুই বছরের এক শিশুকে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মা তাকে ফেলে রেখে ঢাকায় পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই বছরের শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ঢাকায় পালিয়ে যান তার মা মিতু আক্তার
- 📌 শিশুর দাদিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইউএনওর বাসভবনে নিয়ে যান
- 📌 ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ নিজেই শিশুর দায়িত্ব নিয়ে তার নিরাপত্তা ও যত্নের ব্যবস্থা করেন
- 📌 শিশুর বাবা মো. পলাশ তিন মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর বাইরে অবস্থান করছেন
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার একটি ইটভাটার সামনে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে একা কাঁদতে থাকা শিশুটিকে দেখে কয়েকজন এগিয়ে যান। পরে তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যান। কিন্তু দাদি শিশুটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. পলাশ এবং মা মোছা. মিতু আক্তার। প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার মিতু আক্তার শিশুটিকে ইটভাটার সামনের সড়কে রেখে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ। পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে মোরেলগঞ্জের বাইরে রয়েছেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন দিনের মধ্যে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের দায়িত্বে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে শিশুটির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ নিজেই তার দায়িত্ব নেন। শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। শিশুটির পরনে প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামা কাপড় এনে পড়িয়ে দেন এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভাল নিশ্চিত করতে তার ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে সবার উপস্থিতিতে তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে শিশুটিকে সাময়িকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
"শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভাল নিশ্চিত করতে তার ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ, মিতু আক্তার, মো. পলাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই বছর, ২১ আগস্ট, ১৪ নম্বর ইউনিয়ন, ২ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!