📌 গণবুদ্ধিজীবী আনু মুহাম্মদ ১৯৭১ সালের ১ মার্চের মিছিল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে মিছিলে অংশ নেন, পরে স্বাধীন বাংলাদেশে ত্রাণ তহবিলের জন্য চ্যারিটি সিনেমা শো আয়োজন করেন। এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর রাজনৈতিক ও বিপ্লবী চেতনায় জড়িয়ে পড়েন
১৯৭১ সালের ১ মার্চের ঐতিহাসিক মিছিল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের অন্যতম গণবুদ্ধিজীবী আনু মুহাম্মদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সংগঠক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেতা আনু মুহাম্মদ আজ তার জন্মদিনে নিজের জীবনের স্মৃতিচারণে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে তিনি কীভাবে একরকম ঘটনাক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৭১ সালের ১ মার্চের ক্রিকেট মাঠে** পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বাহবা দেওয়ার পর দর্শকরা দ্রুত মিছিলে রূপ নেয় এবং ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো’ স্লোগান দিতে শুরু করে, যেখানে আনু মুহাম্মদও জড়িয়ে পড়েন।
- 📌 **মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বড় মিছিল** থেকে ফিরে আসার পর বাবা ঢাকায় নিয়ে যান, যেখানে তিনি আরবান গেরিলাদের সাথে দেখা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- 📌 **১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে** ত্রাণ তহবিলের জন্য নিজস্বভাবে চ্যারিটি সিনেমা শো আয়োজন করে প্রায় ৩৫২ টাকা সংগ্রহ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের কার্যালয়ে সরাসরি হেঁটে যান টাকা দিতে।
- 📌 **মুক্তিযুদ্ধের পর** রাজনৈতিক ও বিপ্লবী চেতনায় জড়িয়ে পড়েন, মার্ক্সবাদ সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
📰 বিস্তারিত
আনু মুহাম্মদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়তেন। ১৯৭১ সালের শুরুতে স্কুলের ক্লাস নিয়মিতভাবে শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “১ মার্চের দিন আমি স্কুলের পরিবর্তে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বাহবা দেওয়ার পর দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে রেডিওতে ইয়াহিয়া খানের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার খবর শুনে স্টেডিয়ামের চেহারা পাল্টে যায়। দর্শকরা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে এবং ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো’ স্লোগান দিতে থাকে। সেই মিছিলের সঙ্গে আমিও চলে যাই। মিছিলের শেষে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। এভাবেই আমার মুক্তিযুদ্ধের সাথে প্রথম যোগসূত্র গড়ে ওঠে।”
মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন এবং আরবান গেরিলাদের সাথে দেখা করেন। তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহিল বাকির কাছে গিয়ে বললাম, আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চাই। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুমি যেতে চাও?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। এটা ছিল ১৯৭২ সালের ঘটনা, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই। যুদ্ধের প্রভাবে তরুণদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় আমরা ছোটবেলায় ‘অঙ্কুর পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করতাম এবং পল্লীমা সংসদে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম।
স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ত্রাণ তহবিলের জন্য একটি চ্যারিটি সিনেমা শো আয়োজন করেন। তিনি বলেন, “গুলিস্তানে গিয়ে ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বললাম, আমরা একটি সিনেমা শো করতে চাই। একটা সিনেমা পাওয়া গেল, টিকিট ছাপালাম এবং নিজেরাই টিকিট বিক্রি করলাম। শো শেষে আমাদের হাতে প্রায় ৩৫২ টাকা থাকল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য আমরা মিন্টো রোডের পুরোনো গণভবনে গেলাম। আমরা আট-দশজন হেঁটে হেঁটে সেখানে গেলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে টাকা দিতে বললাম। প্রহরীরা আমাদের গেটে বসিয়ে ভেতরে খবর দিলেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের ডাকা হলো এবং আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি। এই ঘটনা আমার রাজনৈতিক ও বিপ্লবী চেতনায় প্রভাব ফেলে।
"মুক্তিযুদ্ধের পুরো ঘটনাপ্রবাহ যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, আমি ঠিক সেখানেই ছিলাম। ১ মার্চের ওই মিছিলটাই ছিল তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মিছিল। এই ঘটনার পর আমার রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, বিপ্লব—এসব বিষয়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হলো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, স্টেডিয়াম, মিন্টো রোড (পুরোনো গণভবন), গুলিস্তান সিনেমা হল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনু মুহাম্মদ, আব্দুল্লাহিল বাকি, শেখ মুজিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫২ টাকা (চ্যারিটি সিনেমা থেকে সংগ্রহ), ১ মার্চ (মুক্তিযুদ্ধের প্রথম মিছিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!