📌 গহিন চরের কৃষক আলতাবুরা 'বীজ বুড়ি' হিসেবে পরিচিত। দুর্যোগের সময় সংরক্ষিত বীজের মাধ্যমে কৃষিকে পুনরুদ্ধার করতে নারীরা কীভাবে অবদান রাখছেন, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার মুখে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ কৃষির বৈচিত্র্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে
গহিন চরের কৃষক আলতাবুরা, যাকে স্থানীয়রা ‘বীজ বুড়ি’ বলে সম্বোধন করেন, দুর্যোগের মুখে কৃষিকে পুনরুদ্ধার করতে নারীদের সংরক্ষিত বীজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছেন। আলতাবুরা মোটা কুমড়ার চাষে মাতেননি বলেই জানান, ‘মোটা কুমড়া টেকবি না’—অর্থাৎ এগুলো টেকসই নয়। বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার কারণে কৃষকের ফসল এবং পরবর্তী মৌসুমের বীজ নষ্ট হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নারীদের সংরক্ষিত বীজ কৃষি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গহিন চরের আলতাবুরা ‘বীজ বুড়ি’ হিসেবে পরিচিত, স্থানীয় ধান, ডাল ও শাকসবজির বীজ সংরক্ষণ করে দুর্যোগের মুখে কৃষিকে রক্ষা করেন
- 📌 বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও সংরক্ষিত বীজ থাকলে পরবর্তী মৌসুমে চাষ শুরু করা সহজ হয়, বাইরের উৎস থেকে বীজ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমে
- 📌 নারীদের বীজ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে বিজ্ঞানভিত্তিক করার জন্য গ্রামভিত্তিক বীজ ব্যাংক, বীজের গুণমান পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ দরকার
- 📌 সাতক্ষীরার তালা গ্রামের নারীরা মাষকলাই ও চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানিয়ে বর্ষার খাবার হিসেবে সংরক্ষণ করে দুর্যোগ মোকাবিলা করেন
- 📌 বীজ সংরক্ষণে নারীদের অবদান স্বীকৃতি পেলেও কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি
📰 বিস্তারিত
গত বছরের ঘটনা ছিল যমুনার চরে মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন। পথে বগুড়ার মোকামতলা হাটে বিশাল কুমড়া দেখে উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন লেখক। কিন্তু আলতাবুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারলেন, মোটা কুমড়া টেকসই নয়। কৃষিবিদ হালিম শেখও জানিয়েছিলেন, বিশাল আকারের এই কুমড়া সংরক্ষণযোগ্য নয়। আলতাবুরা দেশি কুমড়ার বীজ ব্যবহার করেন, যা শীতের সবজি হিসেবে বন্যার পানির পর জমিতে বুনে রাখেন। চৈত্র-বৈশাখ মাসে পাকলে বর্ষার জন্য উঠিয়ে রাখেন। দুই বছরেও এসব কুমড়ার কিছু হয় না।
বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও সংরক্ষিত বীজ থাকলে পরবর্তী মৌসুমে চাষ শুরু করা সহজ হয়। এতে বাইরের উৎস থেকে বীজ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমে। তবে সব স্থানীয় জাত সব ধরনের দুর্যোগ সহ্য করতে পারে না। উপযুক্ত জাত নির্বাচন জরুরি। আলতাবুরা নিজেদের সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করতে পারলে প্রতিটি মৌসুমে বীজ কেনার খরচ কমতে পারে। তবে সংরক্ষিত বীজের অঙ্কুরোদ্গম ও গুণমান ভালো থাকা প্রয়োজন। বীজ বিনিময়, ভাগাভাগি এবং প্রতিবেশীদের সহায়তার মাধ্যমে দুর্যোগের পর কৃষি পুনরুদ্ধারের একটি স্থানীয় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে।
বীজ সংরক্ষণ নিজে থেকেই দুর্যোগের ক্ষতি ঠেকাতে পারে না। বীজ নিরাপদে রাখা, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সঠিক সময়ে বপনের সুযোগ—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। বাণিজ্যিক বীজের ওপর নির্ভরতা বাড়লে কিছু স্থানীয় জাতের চাষ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বীজ সংরক্ষণে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ, বাজার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রবেশাধিকারও নিশ্চিত করা দরকার।
বছর পাঁচেক আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সাতক্ষীরার তালা গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলা মাঠে গ্রামের নারীরা মাষকলাই আর চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানাচ্ছিলেন। এই বড়ি ছিল তাদের নিদানকালের খাবার। সাদা চোখে এসব কাজ তুচ্ছতাচ্ছিল্য মনে হলেও, বন্যা মোকাবিলায় নারীদের পারিবারিক প্রস্তুতি ছিল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। সেবার তালার মহান্দী গ্রামের দীপালি রানি ও হাজরাকাটী গ্রামের ফাতেমা বেগম বলেছিলেন, ‘বড়ি করে বর্ষার খাবার সংরক্ষণ করা আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
"মোটা কুমড়া টেকবি না। ছাতা পড়ে পচি যায়। এই কুমড়া বেশি দিনও থাকে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গহিন চর, যমুনা নদী, বগুড়া, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলতাবুরা (বীজ বুড়ি), হালিম শেখ (কৃষিবিদ), দীপালি রানি ও ফাতেমা বেগম (নারী কৃষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ বছর (বীজ সংরক্ষণের সময়কাল), ২ বছর (কুমড়ার সংরক্ষণকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!